কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আধিপত্য বিস্তারের জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ইকবাল হোসেন নামে একজন নিহত হয়েছেন। এসময় উভয়পক্ষের শতাধিক আহত এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পুলিশ বলছে, আধিপত্য বিস্তারে বংশ পরম্পরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া এ দুই পক্ষকে গ্রেপ্তার করেও দমন করা যাচ্ছে না।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইকবাল হোসেন (৩৫) মৌটুপী গ্রামের সরকারবাড়ির ধন মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অর্ধশত বছর ধরে মৌটুপী গ্রামের সরকার বাড়ি ও কর্তাবাড়ির মধ্য বিবাদ চলছে। যার কারণে কিছুদিন পর পর বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে দুই বংশের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফলে উভয়পক্ষের ১০/১২ জন নিহতসহ আহত হয়েছেন শত শত লোক। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
গত কয়েক মাস আগে সংঘর্ষে কর্তা বাড়ির নাদিম কর্তা নামে এক যুবক নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকে দু’পক্ষের মধ্য প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকে। এরই জেরে শুক্রবার বিকালে দু’পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় ইকবাল হোসেন নামের এক যুবক প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া, আহতদের কয়েকজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারিয়া নাজমুন প্রভা জানান, আহতদের নিয়ে আসলে ইকবাল হোসেন নামে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া গুরুতর আহত ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, মৌটুপী গ্রামের মানুষ বংশ পরম্পরায় আধিপত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। মামলা ও গ্রেপ্তার করেও এদের দমন করা যাচ্ছে না।
নিহত পারভেজের ৭ সদস্যের সংসার এখন কে দেখবে, প্রশ্ন মায়ের
ইমরানের বিচার কি কোর্ট মার্শালেই? জবাব চাইলেন আদালত