ছিনতাইয়ের সময় ছিনতাইকারীদের হাতে রাজধানীতে প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে কদমতলী মেরাজনগর কাঁচারাস্তার ওপর ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মো. হাশেম (৪৮) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী খুন হন। ৩০ আগস্ট হাজারীবাগে ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হন ইফতেখার হোসাইন ইমন (২৪) নামে এক তরুণ। ৩১ আগস্ট ভোরে বাসাবো ফ্লাইওভারের ঢালে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হন অটোরিকশাচালক মো. ইউসুফ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু গত ২৭ আগস্ট থেকে তিন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আট দিনেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। এছাড়া অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিয়েছেন ও নিচ্ছেন ঢামেক হাসপাতালে।
ছিনতাইয়ের সময় খুনের ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই ঢাকা মহানগরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় কাজ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের অপরাধ বিভাগের গত জুন ও জুলাই মাসের ছিনতাই ও খুনের মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুলাই মাসে দস্যুতা অর্থাৎ ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে ১৬টি, খুনের মামলা হয়েছে ১৩টি। পরের মাস জুলাইতে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে দস্যুতা অর্থাৎ ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে মাত্র ১৫টি, খুনের মামলা হয়েছে ৬৯টি এবং ডাকাতির মামলা হয়েছে তিনটি। আগস্ট মাসে ১১১টি হত্যা মামলার তথ্য পাওয়া গেলেও ছিনতাই বা ডাকাতির মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বাস্তবে ছিনতাই ও ছিনতাইয়ের সময় খুনের ঘটনা এর চেয়ে অনেক বেশি বলেই ধারণা নাগরিকদের।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা। দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং নগরে পুলিশি টহল জোরদার না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকরা।
বিস্তারিত পড়ুন এখানে
ছিনতাইকালে বাড়ছে খুন