নিম্নচাপের প্রভাবে বিপর্যস্ত পটুয়াখালীর জনজীবন

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:১৩ পিএম

পটুয়াখালীতে গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত তিনদিনের টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটা থেকে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন নিচু স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে আছে আমন ক্ষেত। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।

এদিকে গভীর সমুদ্রে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে উত্তাল রয়েছে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর। বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে নদ-নদীর পানির উচ্চতা এবং বাতাসের তীব্রতাও অনেকটা বেড়েছে। দশমিনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও বাউফল উপজেলার প্রায় ৫০টি চরের বসবাসরত মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বিরামহীন বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের জন-জীবন।

উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পটুয়াখালীর পায়রাসহ সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনা এলাকার বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাসকারী মিরাজ জানান, জোয়ারের পানিতে আমাদের বাড়িঘর সবকিছু তলিয়ে যায়। আমরা অনেক ভোগান্তিতে আছি।

গলাচিপা উপজেলা আমখোলা ইউনিয়নের কৃষক সেলিম মিয়া জানান, বেশিরভাগ জমি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের বীজ পচে গেছে। এদিকে চারা রোপণের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। জমি তলিয়ে থাকায় ধানের চারা রোপণ করতে পারছি না।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান জানান, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত জেলায় ২৮.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৯.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলে আগামী তিনদিন পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। পায়রা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. আরিফ হোসেন বলেন, স্বাভাবিকের চেয়ে নদ-নদীর পানির উচ্চতা অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জোয়ারে বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত