বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দিন কুমিল্লার দেবিদ্বারে পুলিশের গুলিতে আহত হয় মো. আমিনুল ইসলাম সাব্বির (১৭)। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় নিজ বাড়িতে মারা যায় সে। সাব্বির দেবিদ্বার পৌর এলাকার দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলমগীর মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন সারাদেশের মতো দেবিদ্বার উপজেলায়ও ছাত্র-জনতা উল্লাসে মেতে উঠে, চলে আনন্দ মিছিল। একপর্যায়ে কিছু দুষ্কৃতিকারী থানায় আক্রমণ করে পুড়িয়ে দেয় পুলিশের পিকআপ ভ্যান। এ সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয় অর্ধশতাধিক স্থানীয় ছাত্র-জনতা। তাদের মধ্যে সাব্বির মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। ওইখানে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসা শেষে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাব্বির বাড়িতে ফেরে। কিন্তু বাড়ি ফেরার একদিন পরই শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
সাব্বিরের মা রিনা বেগম বলেন, দীর্ঘ প্রায় এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসা শেষে গতকাল ছেলেকে নিয়ে বাড়ি আসি। কিন্তু সকালে আমার ছেলেটি মারা গেল। দুই বছর আগে সাব্বিরের বাবা মারা যাওয়ায় তার আর লেখাপড়া করা হয়নি। সিএনজি চালিয়ে সংসারের হাল ধরে।
দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, সাব্বিরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আমরা তার বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে তার লাশের ময়নাতদন্তের জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু স্থানীয় লোকজন আমাদের বাধা দিয়ে বলেন- ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করবেন। পরে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সাব্বিরের মরদেহ দাফনের অনুমতি দিয়ে ফিরে আসি।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিগার সুলতানা বলেন, তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে লাশ দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সময় তিনি সাব্বিরের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দেবিদ্বার থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ৯৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করে ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন তার মামা নাজমুল হক। তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়তে সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন: ফরহাদ মজহার
আগামীকাল সব পোশাক কারখানা খোলা থাকবে: শিল্প উপদেষ্টা