দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী স্মৃতি ইরানি? জল্পনা বিজেপিতে

  • দিল্লিতে নতুন বাড়ি কিনেছেন বিজেপি নেত্রী
  • লোকসভায় হারের পর সদস্য বাড়ানোর ওপর জোর বিজেপির
  • পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১৬ পিএম

লোকসভা নির্বাচনে অমেঠীতে পরাজয়ের পর স্মৃতি ইরানির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সম্প্রতি দিল্লিতে প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নানা রাজনৈতিক তৎপরতার পর প্রশ্ন উঠেছে, আগামী বছর দিল্লি বিধানসভা ভোটে বিজেপির মুখ কি তিনিই? বিজেপির অন্দরেও বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে। যদিও দলটির একাংশ বলছেন, স্মৃতি একা নন, তার সঙ্গে তালিকায় রয়েছেন দিল্লি বিজেপির আরও একাধিক মুখ।

লোকসভা ভোটে হারের পর ভারত জুড়ে নতুন করে সদস্য বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে বিজেপি। সে জন্য সদস্য সংগ্রহ অভিযানও শুরু হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। দিল্লিতে ২ সেপ্টেম্বর থেকে এ অভিযান শুরু হয়। দিল্লি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১৪টি জেলা শাখার মধ্যে সাতটিতে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি খতিয়ে দেখার ভার দেওয়া হয়েছে স্মৃতিকে। তারপরেই দলে তার নতুন দায়িত্ব নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। সেই জল্পনা আরও বেড়েছে দক্ষিণ দিল্লিতে স্মৃতি নতুন একটি বাড়ি কেনার পর।

লোকসভা ভোটের ঠিক আগেই অমেঠীতে নিজের নতুন বাড়িতে প্রবেশ করে স্মৃতি বলেছিলেন, তিনি ভোটের পরেও অমেঠীতেই থাকবেন। কিন্তু লোকসভা ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী কিশোরী লাল শর্মার কাছে বিপুল ভোটে হারের পরে অমেঠীর সেই বাড়িতে থাকেননি স্মৃতি। এ বারে দিল্লিতে তার নতুন বাড়ি কেনার পরে প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি ফের দিল্লিতেই ফিরে আসছেন এই বিজেপি নেত্রী?

আগামী বছর দিল্লি বিধানসভা ভোটে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছে। ফলে তাকেই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী মনে করছেন অনেকে। কিন্তু বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, স্মৃতির পাশাপাশি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি, প্রয়াত সুষমা স্বরাজের মেয়ে তথা প্রথম বারের সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ, দিল্লি বিজেপির সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব এবং পশ্চিম দিল্লির প্রাক্তন সাংসদ প্রবেশ বর্মার নামও রয়েছে তালিকায়। তবে এদের মধ্যে প্রবেশের নাম নিয়ে আপত্তি দলের অনেকের।

অমেঠী কেন্দ্রে কংগ্রেসের কিশোরী লাল শর্মার কাছে হারের পর স্মৃতিকে সোশ্যালে তীব্র আক্রমণ করেন কংগ্রেসের নানা স্তরের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে খোদ রাহুল গান্ধী দলীয় স্তরে বার্তা দেন স্মৃতিকে আক্রমণ বন্ধ হোক। তারপরে এক অনুষ্ঠানে রাহুলের প্রশংসা করেন স্মৃতি। তা নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়।

এর আগে ২০১৫ সালে প্রাক্তন আইপিএস কিরণ বেদীকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ করে দিল্লি বিধানসভা ভোটে লড়েছিল বিজেপি। কিন্তু সে বার আম আদমি পার্টির কাছে শোচনীয়ভাবে হারে তারা। সে সময় দলের অন্দরেই কিরণ বেদীকে মুখ করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বারে বিজেপি কোন পথে হাঁটে সেটাই দেখার।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল

বড় ঘোষণা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের

এদিকে ছয় মাস কারাগারে বন্দী থাকার পর জামিনে বের হয়েই বড় ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে দলীয় সম্মেলনে নিজেই একথা ঘোষণা করেন কেজরিওয়াল। নির্বাচনে জেতার আগে এই পদে আর ফিরতে চান না তিনি। এছাড়া দিল্লিতে আগাম নির্বাচনেরও দাবি জানিয়েছেন।

দিল্লিতে একটি দলীয় সম্মেলনে কেজরিওয়াল বলেন, ‘দুই দিন পরে আমি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করব। জনগণ তাদের রায় ঘোষণা না করা পর্যন্ত আমি আর সেই চেয়ারে বসব না। দিল্লিতে নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস বাকি। আমি আইনি আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি, এখন আমি জনগণের আদালত থেকে ন্যায়বিচার চাই। শুধু জনগণ চাইলেই  আমি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি দিল্লির জনগণকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, কেজরিওয়াল কি নির্দোষ নাকি দোষী? আমি যদি কাজ করে থাকি তবে আমাকে ভোট দিন।’

কেজরিওয়াল পদত্যাগ করার পর দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী বাছাই করতে আগামী দুই দিনের মধ্যে আম আদমি পার্টির বিধায়কদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় আম আদমি পার্টির কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলেও জানান তিনি।

এই সময় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে কেজরিওয়াল আরও দাবি করেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত দিল্লির নির্বাচন, মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের সঙ্গে নভেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে কেজরিওয়াল নরেন্দ্র মোদী সরকারকে ব্রিটিশদের চেয়েও স্বৈরাচারী বলে অভিহিত করেন।

সূত্র: আনন্দবাজার ও এনডিটিভি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত