জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার নুরুন্নাহার মির্জা কাশেম কলেজ পরিচালনায় দুই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম আগের কমিটি বহাল রেখে প্রভাব খাটিয়ে আরেকটি কমিটি করেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষক-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের। অপকর্ম ঢাকতেই ছোট ভাইকে কমিটিতে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নুরুন্নাহার মির্জা কাশেম কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম সাবেক বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজমের ছোট বোন।
জানা যায়, নুরুন্নাহার মির্জা কাশেম কলেজ পরিচালনা করতে ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে গত ১১ সেপ্টম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক মো.আব্দুল হাই সিদ্দিক স্বাক্ষরিত এক পত্রে ছয় মাসের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এডহক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পত্রটি অধ্যক্ষ বরাবরে দেওয়া হয়েছে।
সেই পত্রে রয়েছে, কলেজ পরিচালনার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে অব্যাহত রাখার স্বার্থে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে এডহক কমিটি গঠন করা হলো। সেই কমিটিতে মনছুরুল কাদের বাবুকে সভাপতি ও আবু সাইমকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করা হয়।
এই কমিটি গঠনের পাঁচদিন পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক মো. আব্দুল হাই সিদ্দিক স্বাক্ষরিত আরেকটি কমিটি করা হয়। কমিটিতে মির্জা আজমের ছোট ভাই মির্জা জিল্লুর রহমানকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করা হয়।
শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মির্জা আজমের ছোট বোন। তিনি যোগদানের পর থেকে কেবল পরীক্ষার সময় আসতেন। তিনি দীর্ঘদিন থেকে ভাই মির্জা আজমের প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট করেছেন। তার অপকর্ম ঢাকতেই স্বামী সাবেক সচিব আব্দুল কাইয়ুমের প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরো দুই সচিবকে নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেকটি কমিটি অনুমোদন নিয়েছেন। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা আগের কমিটি বহাল করে অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগমের দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ নিয়ে নুরুন্নাহার মির্জা কাশেম কলেজের অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম বলেন, আগের কমিটি সম্পর্কে আমি অবগত না। গত ৫ তারিখের পর সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। আমাকে কমিটির জন্য নাম পাঠাতে বলেন। আমাদের কলেজের কমিটিতে সব সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা, ইউএনও অথবা ডিসি সভাপতি থেকেছেন। গত কমিটিতেও মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তার সঙ্গে কথা বলেই আমি কমিটির নাম পাঠিয়ে দিয়েছি। আর বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে দুজনের নাম পাঠানো হয়েছিল। তারা যাকে পছন্দ করেছেন তাকে রেখেছেন। এখানে আমার প্রভাব খাটানোর কিছু নেই।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাইযুল ওয়াসীমা নাহাত বলেন, আগের কমিটি কার স্বাক্ষরে, কে বা কারা পঠিয়েছে সেটা আমার জানা নেই। উনি (অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম) কমিটি পরিবর্তনের কেউ না। পরে কমিটিটা যথানিয়মে হয়েছে বলে তিনি জানান।
আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামশেদকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ
অশ্বিন-জাদেজায় ফিরে এলো বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের স্মৃতি