রাজীবের বয়কট, ইসরায়েল এর বিরুদ্ধে খেলতে চাননি আরও ২ দাবাড়ু

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:০৫ পিএম

হাঙ্গেরিতে বিশ্ব দাবা অলিম্পিয়াডে দশম রাউন্ডে ওপেন বিভাগে প্রতিপক্ষ হিসেবে ইসরায়েলের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পরই গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশের চারজনের দলে তার নাম দেখা যায়। নিজের নৈতিক অবস্থানে দৃঢ় থাকায় শেষ পর্যন্ত খেলতে নামেননি রাজীব। ফলে আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচটিতে চার বোর্ডের একটিতে ওয়াকওভার পায় ইসরায়েল। বাকি তিন বোর্ডে আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান, ফিদে মাস্টার মনন রেজা ও তাহসিন তাজওয়ার জিয়া খেলেছেন।

বুদাপেস্টে চলমান প্রতিযোগিতায় শুক্রবার নবম রাউন্ডের পর ঠিক হয়, দশম রাউন্ডে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইসরায়েল। এটা জানার পর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীব জানান, ইসরায়েলের বিপক্ষে তিনি খেলবেন না। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘২০২২ সালে চেন্নাই দাবা অলিম্পিয়াডসহ ২০২৪ হাঙ্গেরি দাবা অলিম্পিয়াডে রাশিয়া ও বেলারুশ দল অংশ নিতে পারেনি। তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল কীভাবে অংশ নিতে পারে? আমি বয়কট করলাম।'

ইসরায়েলকে বয়কট করার পেছনের যুক্তি সম্পর্কে গ্র্যান্ডমাস্টার রাজীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইউক্রেনে হামলার কারণে রাশিয়া ও বেলারুশকে দাবা অলিম্পিয়াডে খেলতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি নিজ দেশের পতাকা নিয়ে দেশ দুটির দাবাড়ুদের বিশ্ব আসরে খেলার সুযোগ নেই। ফিদে তাদের নিষিদ্ধ করে রেখেছে। ইসরায়েল নির্বিচার ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে। এর প্রতিবাদেই আমি ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলছি না।’

আগের রাতেই তার বয়কটের সিদ্ধান্তের পর কেন দলে তার নাম দেওয়া হলো জানতে চাইলে রাজীব জানান, ‘পাঁচজনের মধ্যে নিয়াজ ভাই (গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ) ও নীড়ও (ফিদে মাস্টার মনন রেজা) ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে চাইছিল না। কিন্তু চারজনের নাম তো দিতে হবে। তাই আমার নাম দিয়েছে।’ এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ফেডারেশন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে চাইলে কী করবেন জানতে চাইলে রাজীব বলেন, ‘আমি আমার নৈতিক সিদ্ধান্তে অটল। এর ধারাবাহিকতায় ফেডারেশন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে তার সামনা করবো।’

এদিকে বিশ্ব  দাবা সংস্থার কংগ্রেসের জন্য বুদাপেস্টেই অবস্থানকারী বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম ম্যাচ শুরুর আগে দেশের গণমাধ্যমে রাজীবের বয়কট প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘এভাবে একজন খেলোয়াড় কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে না খেলার অবস্থান নিতে পারে না। ম্যাচের দিন সকাল ১০টার মধ্যে ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের নামের তালিকা জমা দিতে হয়। সে অনুযায়ী আমরা রাজীবসহ চারজনের নাম জমা দিই। জমা দেওয়ার পর নাম আর প্রত্যাহার করা যায় না। ফলে রাজীব না খেলায় কিছু করার নেই। তার বোর্ডে আমাদের কেউ থাকছে না। ইসরায়েল ওয়াকওভার পাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত