খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাহাড়িদের দোকান বাড়িঘরে আগুনের অভিযোগের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) অভিযোগ গ্রহণ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে কমিশন।
আজ রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে গত ২০ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে বর্ণিত সংঘর্ষের ঘটনা অনভিপ্রেত। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙামাটিতে সংঘাত ছড়িয়ে যাওয়ার যে খবর পাওয়া গেছে তা আরও উদ্বেগজনক। উল্লিখিত ঘটনাসমূহে হতাহতের খবরসহ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপ্রীতিকর এ পরিস্থিতি দ্রুততার সাথে স্বাভাবিক করার জোরালো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সমীচীন বলে কমিশন মনে করে।
স্বতঃপ্রণোদিত আদেশে বলা হয়, সংঘর্ষ-সহিংসতায় পার্বত্য দুই জেলায় ৪ জন নিহত এবং অন্তত ৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্ণিত এলাকাসমূহের শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্যোগ গ্রহণসহ ঘটনার পেছনে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনকে অবহিত করার জন্য চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে বলা হয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর এ বিষয়ে প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে বাঙালি-পাহাড়িদের সংঘর্ষে হতাহত ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা ও বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। এক বিবৃতিতে এইচআরএসএস অবিলম্বে সকল ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের লক্ষে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের করে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানায়। একই সঙ্গে সরকারকে সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে এইচআরএসএস।
