হাসপাতালের চিত্র বলতে গিয়ে কান্নায় আপ্লুত মুশফিকুল ফজল আনসারী

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৪৭ পিএম

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের হাসপাতালের চিকিৎসারত অবস্থার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় আপ্লুত হয়ে ওঠেন সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি বলেন, এখানকার পরিবেশ খুবই বেদনাবিধুর। খুবই কঠিন মুহূর্ত যখন পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য তারা তাদের জীবন দিয়েছে। এই সামান্য উপঢৌকন তাদের পরিবারের জন্য কিছু না।

আজ রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনাসভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত সাংবাদিকদের স্মরণ এবং তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান উপলক্ষ্যে 'স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনে সাংবাদিক সমাজের ভূমিকা ও বর্তমান করণীয়" শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংগঠন "লাভ শেয়ার বিডি-ইউএস"।

জাতীয় প্রেস ক্লাব এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'জার্নালিস্ট ফর জাস্টিস' এর সহযোগিতা করে। অর্থ সহযোগিতা হিসেবে ঢাকা টাইমস-এর সিনিয়র রিপোর্টার হাসান মেহেদী, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়, গাজীপুর ভিত্তিক দৈনিক ভোরের আওয়াজ পত্রিকার সাংবাদিক শাকিল হোসেন, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সিলেট প্রতিনিধি আবু তাহের মো. তুরাব এবং দৈনিক খবরপত্র-এর রায়গঞ্জ প্রতিনিধি প্রদীপ কুমার ভোমিক এর পরিবার এক লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। আলোচনাসভার সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ।

হাসাপাতালের চিকিৎসারত চিত্র তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনসারী। তিনি বলেন, আপনারা হয়তো এখানে বসে অনেক কথা বলছেন, অনেকের মনে সুপ্ত বাসনা পূরণ করতে চেষ্টায় আছেন। আমি গতকাল হাসপাতালে গিয়েছিলাম। দেখে চোখের পানি ধরা রাখা যায় না। হাত, পা নেই, অঙ্গহানী ও পঙ্গু হয়েছে অনেক ছাত্র জনতা। দু পা নেই, কেটে ফেলতে হয়েছে। উপুর হয়ে শুয়ে আছে। উল্টে উঠে একটি হাসি দিয়ে বলল, ব্রাদার উই আর মেরিট। কি ভালোবাসা আর দেশ নিয়ে, কি প্রেম তাদের দেশের প্রতি।

নিহত গাজীপুর ভিত্তিক দৈনিক ভোরের আওয়াজ পত্রিকার সাংবাদিক শাকিল হোসেনের বাবা বলেন, আমার ছেলের লাশ দিতে চায়নি, পরে দেয় কিন্তু জানাজার জন্য সময় দিতে চায়নি। পরে জনগণের চাপে সময় দিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।

নিহত ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক হাসান মেহেদীর বাবা তার ছেলের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, আপনাদের মতো আমার ছেলেও সাংবাদিক ছিল। আমার ছেলে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ। আমি যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যার বিচার চেয়ে মামলা আটক করে পুলিশ, সেখান থেকে কোর্টে মামলা করেছি কিন্ত পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেনি।

বিএফইউজের সাবেক সভাপতিও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুল্লাহ বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এত কম সময়ে, এত জীবন দান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। স্বৈরাচারের সময় প্রতি মাসে ২৫-৩০ জন করে সাংবাদিক নির্যাতন ও নিগৃহের শিকার হয়েছেন।

সাংবাদিক নেতা ও কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, সবার জন্য সব কিছু আছে বা হয়, কিন্তু সাংবাদিকদের জন্য কেউ কিছু করে না, করেনি। সাংবাদিকদের অন্য চোখে দেখত সরকার। কত সাংবাদিক নিহত ও খুন হয়েছে, সাগর রুনি হত্যার মামলা নিয়ে কি করেছে সরকার এটি একটি উদাহরণ। স্বাধীনতার পর মুজিবের ফ্যাকিসিজমের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও তার আত্মীয়রা ফুলে ফুপে উঠছিল। কত লাঞ্ছনা, বঞ্চনার মধ্যে পড়েছিল এই জাতি, খাদ্যে ভরপুর থাকলে না খেয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। অথচ কোনো সরকার সেই মুজিবের আমল নিয়ে কথা বলেনি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, একটানা এক মাস ৫ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এই আন্দোলনে আবু সাঈদ ও মুগ্ধের সাথে শতশত শহীদের সঙ্গে আমাদের ৫ জন সাংবাদিক শহীদ হয়েছেন। সাংবাদিকরা আন্দোলন করতে যায় নি গিয়েছিলেন শুধু আন্দোলনের খবর সংগ্রহে জন্য। তারাও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। এই শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য কি আর করত পারব? তবে শান্তনা দেওয়ার মতো কিছু নেই আমাদের কাছে। তবে একটি দাবি করছি, প্রত্যেক শহীদদের নামে যারা যে এলাকায় শহীদ হয়েছেন তাদের নামে রাস্তা ও স্মৃতিফলক স্থাপন করতে হবে। যেন স্বৈরাচারের চিহ্ন হয়ে থাকে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারে, একটি স্বৈরাচার কি ভাবে টিকে ছিল জোর জবর করে। আর যেন কেউ স্বৈরাচার হওয়ার চেষ্টা না করে।

আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ আইয়ুব ভুঁইয়া, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ডিআরইউ সাবেক সভাপতি মোরসালিন নোমানী, ডিইউজেরসহ সভাপতি মোহাম্মদ বাছির জামাল প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত