লাক্স তারকা কুসুম শিকদার শোবিজের পরিচিত মুখ ছিলেন। ছোট ও বড় পর্দা উভয় মাধ্যমে কাজ করে আলোচিত হয়েছেন। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া লাল টিপ চলচ্চিত্র তাকে বড় পর্দায় স্থায়ী আসন দিতে পারত। কিন্তু তিনি স্থায়ী হননি। ফিরছেন নতুন পরিচয়ে, অভিনয়শিল্পীর বাইরে নিজের বানানো শরতের জবা চলচ্চিত্র নিয়ে। কুসুম শিকদারের সঙ্গে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন
হঠাৎ নির্মাণে কেন এলেন?
আপনারা জানেন আমি অভিনয়শিল্পীর বাইরে একজন লেখক। আমি লেখালেখি করি। আমার গল্প শরতের জবা প্রথম প্রকাশ পায় একটি গণমাধ্যমে ২০১৬ সালে। তখন এটার খুব ভালো প্রতিক্রিয়া পাই। অনেকেই আমাকে ফোন করে ও সরাসরি গল্পটির প্রশংসা করেন। এরপর এই গল্পটি ২০২২ সালে আমার গল্পগ্রন্থে প্রকাশ হয়। তখন এটির আরও ইতিবাচক প্রশংসা পেয়েছি। তখন মনে হলো এটা দিয়ে নাটক বা টেলিফিল্ম বানাই। কিন্তু যখন এর চিত্রনাট্য লিখতে যাই তখন মনে হলো এটা সিনেমা ছাড়া হবে না। এরপর সিনেমার চিত্রনাট্য লিখি।
কিন্তু পরিচালনা তো অন্য কেউ করতে পারত?
হ্যাঁ সেটা পারত। কিন্তু এর চিত্রনাট্য যেহেতু আমি লিখেছি, গল্পের প্রতিটি জিনিস এত সূক্ষ্মভাবে লিখেছি, একটা চায়ের কাপ কোথায় থাকবে, একটা ফুলদানি কোথায় থাকবে, এসব পারফেক্ট হতে হবে তখন মনে হলো এটা আমারই বানানো উচিত। আর যেহেতু ছবিটির প্রযোজনাও আমি করছি তাই আমি নিজেই এটি বানানোর পরিকল্পনা করি। যদিও আমার টিমের সুমন ধর ও খায়ের খন্দকার আমাকে দারুণভাবে সহায়তা করেছেন।
শুটিং করতে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন?
ছবির গল্পের ব্যাপ্তি অনেক। এই ছবিতে ভাইটাল চরিত্রে দুজন মেয়ে রয়েছেন। তিনজন পুরুষ। ফলে শুটিংয়ের জন্য আয়োজনটাও ছিল অনেক বড়। আমি চেয়েছি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলো যেন সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। ছবির বেশিরভাগ শুটিং করেছি আমাদের নড়াইলের বাড়িতে। ফলে ছোটখাটো সমস্যার মুখোমুখি হলেও আমরা উৎরে গেছি।
ছবির গল্প ও চরিত্র নিয়ে যদি বলতেন...
আগেই বলেছি এখানে দুজন মেয়ে ভাইটাল চরিত্রে কাজ করেছেন। যার মধ্যে আমি একজন। গল্পটা এখনই পুরোপুরি বলব না। কারণ ছবির টুইস্ট নষ্ট হয়ে যাবে। যতটুকু বলা যায় এটা একটা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার গল্পের ছবি। একজন মেয়ে মুখোমুখি হয় সমাজের নানা প্রতিকূল পরিবেশের। সমাজের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে মেয়েটা যায়। একজন মেয়ের নানা দুর্দশার চিত্র রয়েছে। আমার সঙ্গে নেহা অভিনয় করেছে। আর প্রধান পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইয়াশ রোহান, জিতু আহসান ও শহীদুল আলম সাচ্চু।
নিজের অভিনয় অংশ নিয়ে যদি বলতেন...
আমি সর্বশেষ অভিনয় করেছি ২০১৮ সালে। এরপর পাঁচ বছর পর এই ছবিতে অভিনয় করছি। অভিনয়শিল্পী হিসেবেও আমার ব্যাক করাটা হচ্ছে একটা লম্বা সময় পর। ফলে আমি আশা রাখছি ‘শরতের জবা’ চলচ্চিত্রে দর্শক আমাকে একেবারে নতুন চরিত্রে দেখবেন, যার সঙ্গে কুসুম শিকদারের পূর্বের চরিত্রের মিল পাওয়া যাবে না। এই ছবিতে আমার সঙ্গে তিনজন পুরুষ চরিত্রই স্ক্রিন শেয়ার করেছেন। এ থেকে বুঝতেই পারছেন নতুন কিছু হচ্ছে।
ছবি মুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে বলুন...
দেশের এখন যে সময় চলছে, এটা সিনেমা মুক্তির জন্য অনুকূল নয়। তারপরেও আমি ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। ফাইনালি কী হবে বুঝতে পারছি না। কিন্তু এটা আমার স্বপ্নের প্রজেক্ট। এটাকে আমি ওটিটিতে মুক্তি দেব। কিন্তু যেহেতু এটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, সিনেমা হলে মুক্তি দিতেই হবে। আমাকে ঝুঁকি নিয়েই সেই মুক্তির পথে এগোতে হচ্ছে। আমি দর্শকদের বলব খুব চমৎকার একটি সিনেমা হয়েছে, এটি আপনারা দেখুন, আপনাদের ভালো লাগবে।
নির্মাণে কি নিয়মিত হবেন?
এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করছি না। সময়ের বিষয় সেটা, সময়ই বলে দেবে। এখন আমি সম্পূর্ণ নতুন সিনেমা নিয়ে ভাবছি। এটা নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেলে হয়তো নতুন করে পরের চিন্তা করা যাবে।
