খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং পাহাড়িদের দোকান বাড়িঘরে আগুনের অভিযোগের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) অভিযোগ গ্রহণ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে কমিশন। গতকাল রবিবার কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে গত ২০ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে বর্ণিত সংঘর্ষের ঘটনা অনভিপ্রেত। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পার্শ্ববর্তী জেলা রাঙ্গামাটিতে সংঘাত ছড়িয়ে যাওয়ার যে খবর পাওয়া গেছে তা আরও উদ্বেগজনক। উল্লিখিত ঘটনাসমূহে হতাহতের খবরসহ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট জ¦ালিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপ্রীতিকর এ পরিস্থিতি দ্রুততার সঙ্গে স্বাভাবিক করার জোরালো প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সমীচীন বলে কমিশন মনে করে।
স্বতঃপ্রণোদিত আদেশে বলা হয়, সংঘর্ষ-সহিংসতায় পার্বত্য দুই জেলায় চারজন নিহত এবং অন্তত ৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্ণিত এলাকাসমূহের শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্যোগ গ্রহণসহ ঘটনার পেছনে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে শনাক্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশনকে অবহিত করার জন্য চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে বলা হয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর এ বিষয়ে প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে বাঙালি-পাহাড়িদের সংঘর্ষে হতাহত ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দা ও বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। গতকাল এক বিবৃতিতে এইচআরএসএস অবিলম্বে সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের লক্ষে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানায়।
