অনিশ্চয়তার সময়ে মানুষ তার অভ্যাসবশেই খোঁজে স্থিতিশীলতা এবং আশ্বাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতার সম্মুখীন হয়েছে; সমসাময়িক মুদ্রাস্ফীতি এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এই অস্থিরতাকে নিয়ে গেছে উদ্বেগের কাছাকাছি। তবে, দেশের এই অস্থিরতার মাঝেও দেখা যাচ্ছে পরিবর্তন ও উন্নয়নের ইতিবাচক লক্ষণ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার-এর দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মধ্যে একটি শান্ত পরিবেশের সূচনা হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যথারীতি, নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস (এনবিএফআই) বাংলাদেশে আর্থিক ব্যবস্থায় সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, যা সাধারণ ব্যাংকিংয়ের থেকে কিছুটা আলাদা সেবা প্রদান করে। স্থিতিশীলতার উদ্দেশ্যে এই যাত্রায়, বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় এনবিএফআইগুলোর গুরুত্ব হয়ে পড়েছে অপরিসীম। বিশেষ করে অনিশ্চিত এই সময়ে আমানতকারীদের কাছে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি নিরাপদ ও বিশ্বাসী স্থান অর্জন করা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি এনবিএফআই খাতে গত চার দশক ধরে গ্রাহকের বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং সুপ্রতিষ্ঠিত এনবিএফআই হিসেবে আইডিএলসি সবসময় ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রক্ষণশীলতা নীতিতে বিশ্বাসী এবং এ নীতি অনুসরণ করেই তারা বলিষ্ঠ আর্থিক তারল্য বজায় রেখেছে, যা বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে।
২০২৩ সালে, আইডিএলসি তাদের গ্রাহকসংখ্যা ৬% এবং ডিপোজিট পোর্টফোলিও ৯% বৃদ্ধি করেছে, যা প্রায় চার দশকের বিশ্বাসের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। কোম্পানির মোট দায়ের তুলনায় তরল সম্পদের হার ২২%, যা আইনগত প্রয়োজনীয়তার (৫%)-এর অনেক ওপরে। এ ধরনের দূরদর্শীতাই একটি শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রমাণ, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে আশার আলো হিসেবেই কাজ করে। এটি প্রতিষ্ঠানটিকে তার দায়বদ্ধতা পূরণ করতে এবং সংকটময় সময়েও উন্নয়ন ও বিকশিত হতে সহায়তা করছে।
৩০ জুন ২০২৪ পর্যন্ত, আইডিএলসি দেশের সকল এনবিএফআইগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদ পোর্টফোলিও বজায় রাখছে, যার পরিমাণ ১১,৫৯৯ কোটি টাকা এবং মোট গ্রাহক আমানত এবং অন্যান্য তহবিল ৮,৭০০ কোটি টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই আইডিএলসি বছরের পর বছর ধারাবাহিক বৃদ্ধির প্রমাণ দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী আর্থিক অবস্থান এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আমানতকারীদের আকৃষ্ট এবং ধরে রাখার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়।
আইডিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জামাল উদ্দিনের মতে, আইডিএলসির দৃষ্টি সবসময় গ্রাহকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও তা নিশ্চিত করার ওপর কেন্দ্রীভূত। ‘অনিশ্চিত সময়ে, গ্রাহকদের জানতে হবে যে তাদের সঞ্চয় নিরাপদ। আমাদের মনোযোগ সবসময় তারল্য এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর থাকে, যাতে আমরা গ্রাহকদের মানসিক শান্তি দিতে পারি,’ বলেন এম জামাল উদ্দিন।
সামগ্রিকভাবে এনবিএফআই খাত বাংলাদেশে আর্থিক অবকাঠামো গঠনে অপরিহার্য, এরই মাঝে আইডিএলসি আমানতকারীদের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা এবং সুশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যখন তার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য কাজ করছে, তখন আইডিএলসির মতো এনবিএফআইগুলোর ভূমিকা হয়ে উঠেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আর্থিক তারল্য এবং নিরাপদ আর্থিক সেবা প্রদানের ক্ষমতা নিশ্চিত করে যে আমানতকারীদের অনিশ্চিত সময়েও নির্ভরযোগ্য বিকল্প রয়েছে।
বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট (যার মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রার ওঠানামা অন্তর্ভুক্ত)-এর পাশাপাশি আর্থিক খাতের বাইরে অনেক খাতের অস্থিরতাও আর্থিক স্থিতি স্থাপকতাকে নড়বড়ে করে দিচ্ছে। তবে, অন্তর্বর্তী সরকার যখন অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে মনোনিবেশ করেছে, তখন এই পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারেরও আশা রয়েছে, যা দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের আস্থা আরও দৃঢ় করবে। এনবিএফআইগুলো, বিশেষ করে যেগুলো স্বচ্ছতা এবং শক্তিশালী সুশাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই পুনরুদ্ধারের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে।
যেমনটি এম জামাল উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, ‘বিশ্বাস তৈরি হয় সময়ের সাথে সাথে। আমরা চার দশক ধরে আমাদের গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের আমানতের নিরাপত্তা প্রদানই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’
