ইরান সমর্থিত লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের স্মরণকালের ভয়াবহ বিমান হামলায় লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯২ জনে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ হামলা ছিল এটি।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৩৫ জন শিশু ও ৫৮ জন নারী রয়েছে এবং আরও ১ হাজার ৬৪৫ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক বা হিজবুল্লাহ যোদ্ধা তা জানানো হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফিরাস আবিয়াদ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ভয়াবহ এই হামলার কারণে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
লেবাননে ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর থেকে হিজবুল্লাহর গড়ে তোলা অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে এ অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ইতিমধ্যে গোষ্ঠীটির ১৩০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হেনেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ২০০ টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে করে দুজন আহত হয়েছেন।
কয়েক দিন ধরে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছিল। এরই মধ্যে স্থানীয় সময় সোমবার ভোর থেকে ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের সিডন, মারজায়ুন, নাবাতিহ, বিনতে জেবিল, টায়ার, জেজিন এবং জাহরানি জেলাগুলোর পাশাপাশি পূর্ব বেকা উপত্যকার জাহেলে, বালবেক এবং হারমেল জেলাগুলোতে দিনভর হাজার হাজার বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরের বীর আল-আবেদ এলাকার একটি ভবনে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে হামলাটি দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার আলী কারাকিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল, তবে তিনি নিহত হয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, কারাকি ভালো আছেন এবং নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।
