সাবেক এমপি ফজলে করিমকে মারতে তেড়ে গেল যুবকরা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:০০ পিএম

পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই রাউজানের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে মারতে তেড়ে গেছেন কিছু যুবক। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের নিচ থেকে সরাসরি আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে  হট্টগোল শুরু করেন কিছু যুবক। তাদের কারও কারও হাতে ছিল ‘ফজলে করিমের ফাঁসি চাই’ লেখা ব্যানার-পোস্টারও। একপর্যায়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করেই আদালত ভবনে ঢুকে পড়েন ১০/১২ জন যুবক। তারা ফজলে করিমকে আক্রমণের চেষ্টা চালান। পুলিশকে ধাক্কা মেরে ফজলে করিম চৌধুরীর ওপর হামলা করতে দৌড়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যানের দিকে এগিয়ে যান তারা। কিন্তু পুলিশের বাধায় তারা পিছু হটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিও হয় তাদের। এ নিয়ে আদালত চত্বরে হট্টগোল লেগে যায়।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক দাবি করে এক যুবক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার একটাই দাবি এই জুইন্না (ফজলে করিম চৌধুরী) রাজাকারের ফাঁসি। যেভাবে তারে প্রশাসন প্রটোকল দিচ্ছে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরু হত্যার এক নম্বর আসামি এই জুইন্না রাজাকার।’ 

এর আগে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে ভোর ৬টা থেকে আদালত চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এদিকে আদালতের আদেশে নগরের তিনটি হত্যা মামলাসহ ৫ মামলায় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল মাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালত এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিকের আদালত তাকে এই আদেশ দেন। 

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাউজানের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এই এমপিকে আদালতে হাজির করা হয়। তার দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন চট্টগ্রাম জুডিসিয়াল মাজিস্ট্রেট নুরুল হারুনের আদালত। 

এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-৬ আসনে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০১৪ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গত ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে বিজিবির হাতে আটক হন ফজলে করিম চৌধুরী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত