সাবেক মন্ত্রীর মামাতো ভাইয়ের ভেলকি

  • জনপ্রিয়তা না থাকার পরও ইসরাফিলকে উপজেলা চেয়ারম্যান বানানো হয়
  • তার দাপটে অন্যরা টেন্ডার জমা দিতে পারতেন না
  • মন্ত্রীর মামাতো ভাই হওয়ায় সচিবালয়ে ছিল অবাধ যাতায়াত
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৩৩ পিএম

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ফুপাতো ভাই ইসরাফিল হোসেনের ক্ষমতার দাপটে জিম্মি ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। ইসরাফিল মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান।

জনপ্রিয়তা না থাকার পরও ভোটকেন্দ্র দখল করে জাহিদ মালেক ইসরাফিলকে চেয়ারম্যান বানান বলে অভিযোগ রয়েছে। জাহিদ মালেকের প্রশ্রয় ও সমর্থনে সম্পত্তির পাহাড় বানিয়েছেন ইসরাফিল, গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সাম্রাজ্য।

ইসরাফিলের সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। মানিকগঞ্জের সরকারি বালুমহাল যেন সোনার খনি। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে ইসরাফিলের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতারা একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করেন। সদর উপজেলা বাসস্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলত তার লোকজন।

একদিকে মন্ত্রীর আত্মীয় অন্যদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান পরিচয়ে বেপরোয়া ছিলেন তিনি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি কাজের ঠিকাদারি করতেন। তার দাপটে অন্য কেউ টেন্ডার জমা দিতে পারতেন না।

ইসরাফিলের নামে-বেনামে সম্পদ রয়েছে মানিকগঞ্জ এবং রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। মানিকগঞ্জে তার দুটি ভবন রয়েছে। এ ছাড়া সাভারে একটা ছয়তলা ভবন আছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসরাফিল কোটি কোটি টাকার সম্পদ বানিয়েছেন। বাড়ি-গাড়ি করেছেন। মন্ত্রীর মামাতো ভাই হওয়ার কারণে সচিবালয়ে তার অবাধ যাতায়াত ছিল। তাছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ায় তার এলাকায় যত উন্নয়ন কাজ হয়েছে ঠিকাদারি ছিল ইসরাফিলের একক নিয়ন্ত্রণে। মানহীন ঠিকাদারি কাজ করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বিদেশেও বাড়ি রয়েছে বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারে এক মেয়াদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, আরেক মেয়াদে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। মন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরপরই জড়িয়ে পড়েন নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে। আর এজন্য গড়ে তোলেন পারিবারিক সিন্ডিকেট। যাতে ছিলেন জাহিদ মালেকের স্ত্রী, দুই ছেলে-মেয়ে, বোন, ফুপাতো দুই ভাই এবং মামাতো ভাই ও তার ছেলে।

তবে এখানেই শেষ নয়, পারিবারিক সিন্ডিকেটের বাইরে জাহিদ মালেকের ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছিল দলীয় আরেকটি সিন্ডিকেট। এই চক্রে ছিলেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১০ নেতাকর্মী। অনিয়ম-দুর্নীতিতে ডুবে জাহিদ মালেক ও তার পরিবারের সদস্যরা যেমন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, তেমনি তার দলীয় সিন্ডিকেটের সদস্যদেরও শত শত কোটি টাকার মালিক বানিয়েছেন। পারিবারিক ও দলীয় এই দুই সিন্ডিকেটের সদস্যদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি বলে দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত