দশ বছর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুজ্জামানসহ ১১২ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে আদালতে। গতকাল বৃহস্পতিবার জামায়াত কর্মী ও নিহত সাইফুল ইসলামের বড় ভাই মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেন আদালতে এধই মামলার আবেদন করেন।
মামলার আবেদনে কোম্পানীগঞ্জ থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুল ইসলাম, সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) সুধীর রঞ্জন বড়ুয়া, এসআই আবুল কালাম আজাদ, শিশির কুমার বিশ্বাস, উক্যসিং মারমার নামও উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল আদালত পরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নোয়াখালীর ২ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে এ ঘটনায় পূর্বের কোনো মামলা আছে কি না তা কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসিকে আদালতকে অবহিত করতে বলেছেন। একই সঙ্গে মামলা না হয়ে থাকলে নিয়মিত মামলা হিসেবে (এফআইআর) রেকর্ড করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আবেদনের বিবরণে জানা যায়, মামলার বাদী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা জামায়াত কর্মী। ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর শনিবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা কাদের মোল্লার অবৈধ ফাঁসি কার্যকর করার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বসুরহাট বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ঘোষণা করে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার জন্য ২৫০০-৩০০০ হাজার লোক সমবেত হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন মামলার বাদী ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম। মিছিল শুরুর পরপরই অভিযোগে বর্ণিত আসামি ও অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জন অতর্কিতভাবে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগ কর্মীরা ছিল। হামলাকারীদের মধ্যে অনেকে হেলমেট পরে অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। কাদের মির্জার চালানো গুলি সাইফুল ইসলামের বুকের বাম পাশে গুলি বিদ্ধ হয় এবং মিকনের ছোড়া গুলি পেট ছিদ্র হয়ে বের হয়ে যায়। মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামানের নির্দেশে ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস জামায়াত কর্মী মশিউর রহমান সজিবের ওপর গুলি করেন। এসআই উক্যসিং মারমা সজিবের বুকের নিচে গুলি করেন।
