দেড় মাস ভিসি লাপাত্তা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৮ এএম

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন থেকে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) উপাচার্য ড. মো. আবু নঈম শেখকে কর্মস্থলে দেখা যায়নি। এক সপ্তাহ ধরে তার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি। দুই বছরের বেশি সময় আগে নিয়োগ পাওয়া এ উপাচার্য বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেছেন। কয়েক মাস পরপর দুয়েক দিনের জন্য সুনামগঞ্জ যেতেন। তার উদাসীনতা ও অনিয়মের কারণেই প্রতিষ্ঠার চার বছর পরও এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি হয়নি। গতি পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও।

সূত্রমতে, ২০২২ সালের ১৪ জুন সুবিপ্রবির প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আস্থাভাজন ও ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু নঈম শেখ। নিয়োগের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠা শুরু হয়। উপাচার্য হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। একজন উপাচার্য হয়েও তিনি সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের বাসায় দলীয় নেতাকর্মীর মতো বসে থাকতেন। সুনামগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও গড়ে তোলেন সুসম্পর্ক।

জনশ্রুতি আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু নঈম হলেও সবকিছু চলত এমএ মান্নানের এপিএস ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনাত হোসেনের ইশারায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল নিয়োগ থেকে ঠিকাদারি কিংবা স্থায়ী ক্যাম্পাসের জায়গা দখল সবকিছুতেই হাসনাতের পরামর্শ মেনে চলতেন উপাচার্য। তার চাপেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শুরু থেকেই অনিয়মের আশ্রয় নেন উপাচার্য। ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট একটি জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুবিপ্রবিতে ১০-১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা, যেখানে উপাচার্যেরও সায় আছে। ওই প্রতিবেদনের কোনো প্রতিবাদ জানাননি উপাচার্য কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার সব অনিয়মে সহযোগিতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার জিএম শহিদুল আলম। রেজিস্ট্রার নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে নিজের প্রতি আনুগত্য থাকা ব্যক্তিকে বেছে নেন উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা অফিস সহায়ক ও কম্পিউটার অপারেটর পদে লোকবল নিয়োগের জন্য চলতি বছর ১৯ জানুয়ারি এক চিঠিতি নিয়োগ পরীক্ষার ভেন্যু ঠিক করা হয় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)। এ নিয়ে মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলন করে জেলার সচেতন মহল। পরে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার একটি কলেজে নেওয়া হয় সেই পরীক্ষা। তবে ওই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষার জন্য আবার ডুয়েটে ডাকা হয়। এ পরীক্ষায় হিসাবরক্ষক পদে নিয়োগ পান হাসনাত হোসেনের সহোদর মনোয়ার হোসেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই মনোয়ারকে নিয়োগ দেন উপাচার্য।

শুধু তাই নয়, নিয়োগ পরীক্ষায় যাদের চাকরি হয় তাদের সঙ্গে আগে থেকে যোগাযোগ ছিল হাসনাত ও উপাচার্যের। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় যে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে, তা কখনো ঢাকায়, কখনো গাজীপুরে আবার কখনো সিলেটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে কয়টি পদে লোক নিয়োগ করা হয়েছে, সেখানে তিনি করেছেন স্বজনপ্রীতি।

আইনজীবী রোকেশ লেইস বলেন, আমরা দাবি জানাই অনৈতিকভাবে যে নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হোক।

এসব অনিয়মের ব্যাপারে ড. মো. আবু নঈম শেখ ও রেজিস্ট্রার জিএম শহিদুল আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত