নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে, ব্যারেজের ৪৪ গেট খোলা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৩৭ পিএম

গত কয়েক দিন নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৫২ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কিন্তু তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সকাল ৯টার দিকে তিন সেন্টিমিটার কমে তা দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটারে। তবে দুপুরের দিকে পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট খোলা রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক (গেজ পাঠক) মো. নুরুল ইসলাম।

এদিকে একই সময়ে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ এই পয়েন্টে বিপৎসীমার দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার (বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা যায়, শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ও ৯টায় বিপৎসীমার ৫২ দশমিক শূন্য সেন্টিমিটার, দুপুর ১২টায় ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার, বিকাল ৩টা ও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। রাত ৩টার দিকে তা আরো দুই সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেও সকাল ৬টা আবারও দুই সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ী, খগাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় গতকাল শনিবার বিকাল থেকে বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন উঁচু ও নিরাপদ স্থানে পরিবার নিয়ে সরে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।

অপরদিকে, জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি ও কিছু ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

ঝাড়সিংহেশ্বর চর গ্রামের জনাব মুন্সি বলেন, আমাদের গ্রামটি ভারত-বাংলাদেশ তিস্তা নদীর সীমানার সাথে সংযুক্ত। ফলে ভারত থেকে পানি আসলে প্রথম ক্ষতির সম্মুখীন হই আমরা। একদিকে নদীর পানি, অন্যদিকে বৃষ্টির পানি। শনিবার তিস্তার চরের আবাদী জমি এবং আমনজমিগুলো তলিয়ে যায়। সন্ধ্যায় পানি কম ছিল, কিন্তু হঠাৎ রাতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাকি এলাকা ও ঘরবাড়িতে প্রবেশ করে।

কিসামত চরের বাসিন্দা কৃষক দুলাল ইসলাম (৩৫) বলেন, রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে বাড়িঘরে নদীর পানি ঢুকতে শুরু করেছে। তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় চরের অনেক পরিবার তাদের মালপত্র সরিয়ে নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছে।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ইউনিয়নের পূর্বছাতনাই এবং ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ এলাকা পরিদর্শন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, পানি বাড়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষ বন্যার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আমার ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। অনেক ফসলের খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

ডালিয়া পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, উজানের ঢল আর বর্ষণে তিস্তায় পানির প্রবাহ বেড়েছে। সকাল থেকে পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বর্তমানে তা কমে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত