‘২০২১ সালে চসিক নির্বাচন ছিল তামাশার এবং প্রহসনের’

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৪, ১১:১২ পিএম

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনকে তামাশার এবং প্রহসনের বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমীন। তিন বছর আগে করা মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে আজ মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) এই মন্তব্য করেন জেলার এই যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ।

রায়ে বিএনপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেনকে চসিকের মেয়র ঘোষণা করেন এই বিচারক। একই রায়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচিত হওয়ার ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারির আদেশও দিয়েছেন তিনি।

২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ট্রাইব্যুনালে  ৯ জনকে বিবাদী করে মামলাটি করেছিলেন পরাজিত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মোহাম্মদ খাইরুল আমীন বলেন, ‘নির্বাচনের দিনের নির্বাচনী চিত্র, ঘটনা ও অনিয়ম এবং স্থানীয়, জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব প্রকাশিত অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগে প্রতীয়মান হয় যে 'চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০২১ একটি পূর্বপরিকল্পিত তামাশার, প্রহসনের এবং সরকারি দল মনোনীত প্রার্থীকে মেয়র ঘোষণা দেওয়ার কৃত্রিম আনুষ্ঠানিকতামাত্র।’

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সব ভোটারের অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাদী (শাহাদাত হোসেন) বিপুল ভোটের ব্যবধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র নির্বাচিত হতেন বিবাদীর (রেজাউল করিম) বিপক্ষে। বাদীর ফলাফলের পার্থক্য সম্পূর্ণরূপে অবিশ্বাস্য ও অযৌক্তিক এবং বাস্তবতা বিবর্জিত। চসিক নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ভোটের ফলাফলে সই করেন। কিন্তু কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রকাশে জাল জালিয়াতি ও চরম অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়। বিবাদীরা নির্বাচনী আইন ও বিধিমালাকে কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করে ১ নম্বর বিবাদী রেজাউল করিমের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়ে অন্যায় ও অবৈধভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন।’

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক আরও বলেন, ‘সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনায় দেখা যায়- ১ নম্বর বিবাদী (রেজাউল করিম) নির্বাচিত ঘোষণা করার নিমিত্তে রিটার্নিং অফিসারসহ বিবাদীর নির্বাচনী এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০, সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা ২০১৬ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) বিধিমালা ২০১৯ চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বেআইনি ও যোগসাজশমূলক কার্যকলাপ এবং আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছেন।’

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত