জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট না থাকলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সদস্যরা। একইসঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটমুক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তারা।
বায়রার জ্যেষ্ঠ সদস্য ও বিএনপি নেতা খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘বায়রা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। আমি ব্যবসায়ী হিসেবে এখানে এসেছি। আমি বলব, বায়রায় কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। যদি কোনো সিন্ডিকেট থাকে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব। সিন্ডিকেট না থাকলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে খরচ হবে দুই থেকে তিন লাখ টাকা।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বায়রার যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সিন্ডিকেট সৃষ্টি করা হয়। যার মূলহোতা ছিলেন বায়রার সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন ও কাজী মফিজুর রহমান। এই হোতাদের সহযোগিতা করতেন তখন মন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বায়রাকে একটি দলীয় সংগঠন হিসেবে ব্যবহার করতেন।’
তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেটে রহুল আমীনের সঙ্গে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি নিজাম হাজারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ।’
ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, ‘সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই সময় ৫০ হাজার শ্রমিক প্রতারণা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। ফলে এই সেক্টরের উদ্যোক্তারা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট কিভাবে করা হয়েছিল এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি বংশধর দাতুশ্রী আমীনের পার্টনার বায়রার সাবেক মহাসচিব রহুল আমীন এই সিন্ডিকেট তৈরি করে।’
সংবাদ সম্মেলনে বায়রার পক্ষ থেকে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। বায়রার দাবিগুলো হলো- সিন্ডিকেটের মূলহোতা রুহুল আমিন স্বপনসহ সিন্ডিকেটের পরিকল্পনাকারী, বাস্তবায়নকারী, নিয়ন্ত্রণকারী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের বিচারের আওতায় আনা, বিগত সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় না দেওয়া, দুই দেশের সমঝোতা স্মারকে সন্নিবেশিত বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়া সরকার সিলেকশন করার সুযোগ বাতিল, সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে যেতে না পারা কর্মীদের কম খরচে পুনরায় মালয়েশিয়া পাঠানো, নেপালসহ অন্যান্য ১৩টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া যে প্রক্রিয়ায় কর্মী গ্রহণ করে ঠিক বাংলাদেশ থেকেও একই প্রক্রিয়ার শ্রমিক পাঠানো, বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত এফডব্লিবউসিএমএস অনলাইন পদ্ধতি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অনলাইন পদ্ধতি এবং মালয়েশিয়া সরকারের প্রস্তাবিত ইপ্যাঞ্চ পদ্ধতি বা ম্যানুয়েল পদ্ধতি ব্যবহার, এফডব্লিবউসিএমএসের মাধ্যমে মেডিকেল পদ্ধতি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত যেকোনো মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে মেডিকেল চেকআপ এবং ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে চালু হওয়া দূতাবাসের সত্যায়ন অব্যাহত রাখাসহ সিন্ডিকেটকে সহায়তাকারী বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ করা মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের অপসারণ করা।
গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির রায় প্রত্যাহার
পল্টন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক আটক
প্রকাশিত হয়েছে মনিরুজ্জামান উজ্জ্বলের ‘ভ্রমণকাহিনি’