ভাঙনে দিশেহারা তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৪, ১২:২০ পিএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে নদী গর্ভে যাচ্ছে আমন ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি, ধর্মীও প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। গত এক সপ্তাহে কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার গ্রামে ১০টি বসতবাড়ি তিস্তা গর্ভে চলে গেছে। নদী ভাঙনের কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আরও ১৫টি বসতবাড়ি। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয়স্থাপনা।

সরেজমিন, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ভাঙনের তীব্রতা। ইতোমধ্যে শত বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ১০টি পরিবারের বসতবাড়ি গিলে ফেলেছে সর্বনাশা তিস্তা। ভাঙন আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে অসংখ্য বাড়িঘর। উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটি কাপাসিয়া, লালচামার, হরিপুর ও বেলকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা। ভাঙনের কবলে পড়ে বসতভিটা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

নদী পারের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী ভাঙন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রতি বছর বসতবাড়িসহ বিভিন্ন ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। এছাড়া নদীর ভরাট হওয়া তলদেশ খনন না করা ও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবারগুলো। বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি রক্ষায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি এলাকাবাসির।

এদিকে, তিস্তার ভাঙন পরির্দশন করেছেন পানি উন্নয়ন বোডের্র (পাউবো) রংপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব, গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোডের্র নিবার্হী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক, ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম। তারা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে কথা বলেন। এসময় নদীতে সাময়িক জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন কর্মকর্তারা।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করে গত এক সপ্তাহ ধরে তিস্তা নদী ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ১০টি বসতবাড়ি শতাধিক বিঘা জমির আমনক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমিনদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়ে গেছে অন্তত ৭০টি পরিবার। ভাঙনের মুখে পড়েছে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার গ্রামের আবদুস সালাম বলেন, প্রতিবছর বন্যা আর নদী ভাঙনের সাথে লড়াই করে বেঁচে আছি। ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও ধর্মীয় স্থাপনা বিলিন হচ্ছে। আমরা প্রতিবছর কমপক্ষে ৩—৪ বার ঘরবাড়ি সরাতে বাধ্য হই।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মন্জু মিয়ার দাবি, নদী খনন ও স্থায়ী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে অনেকবার দাবি প্রদান করা হলেও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। ফলে নদী ভাঙন প্রতিবছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি এবং হাজারও একর ফসলি বিলিন হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল জানান, কাপাসিয়া ইউনিয়নসহ বেশকিছু জায়গায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি যাতে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোডের্র (পাউবো) নিবার্হী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, আমি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এই মূহুর্তে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, ভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত