ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সোনার বাংলা, রূপসী বাংলা, নতুন বাংলা, ডিজিটাল বাংলা ও স্মার্ট বাংলা কোনো কিছুই জাতির অর্থনীতির মুক্তি দিতে পারেনি। এবার দেশের মানুষকে ইসলামী বাংলা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক হতে হবে। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) হবিগঞ্জে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, মুসলিমরা ইসলামকে ভয় পায়। ইসলাম মানেই যেন জগদ্দল পাথর। ইসলাম মানেই মহিলাদের বস্তাবন্দি করা হবে। ইসলাম মানেই হলো আমাদের যুবক ভাইদের সবকিছু ছেড়ে দিয়ে মসজিদে ঢোকানো হবে। ইসলাম মানেই আমাদের স্বাধীনতা ভন্ডুল করা হবে। এ রকম হাজারো প্রশ্ন মুসলমানের মনে ঘোরপাক খাচ্ছে। অথচ ক্যাপিটালিজম, সোস্যালিজম, কমিউনিজম গণতন্ত্র কোনো আদর্শ স্থায়িত্ব পায়নি। কিন্তু বহু বছর ধরে ইসলাম স্থায়িত্ব লাভ করে আছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালে ইসলামের ভিত্তিতে পাকিস্থান প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ভূখন্ড বা ভাষাগত কারণে নয়, মূলত সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম জনগোষ্ঠী হওয়ায় পাকিস্থান হয়। পরবর্তীতে আমাদের প্রতি বৈষম্যের কারণে বাংলাদেশের জন্ম হয়। এই দেশ মুসলমানদের তবে অধিকার সবার।
তিনি আরও বলেন, যারা আল্লাহকে ভয় করে না কেয়ামতকে ভয় করে না এ রকম হাজার নেতা জন্ম ও পরিবর্তন হলেও এ দেশে চুরি বন্ধ হবে না। বর্তমান অর্থনীতি গরীবকে গরীব বানায়, ধনীকে ধনী বানায়। ইসলামী অর্থনীতি গরীবদের জন্য। তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, ইসলামী অর্থনীতিতে দেশ চললে গরীবরা ধনীর চেয়ে বেশি ধনী হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৪ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। বিগত সরকারগুলো তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত ও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আইন করেছে, দেশের মানুষের নিরপত্তার জন্য ভাবেনি।
খোয়াইমুখ চত্বরে সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি মহিব উদ্দিন আহমদ সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক শামসুল হুদার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, মুফতি মঈন উদ্দিন খান আলমগীর, সিলেট বিভাগীয় শ্রমিক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোছাব্বির রনু, কাজল মিয়া, হারুনূর রশীদ, হাবিবুর রহমান চৌধুরী, শামসুল হক ওমর, কামাল উদ্দিন আসাদুজ্জামান লিটন প্রমুখ।
