কোটা সংরক্ষণের নামে ৬৭২টি পদ খালি রাখেন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। এতে উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদ পাননি ৩৪তম বিসিএসের ৭৪ চিকিৎসকসহ ৬৭২ জন উত্তীর্ণ প্রার্থী।
আজ শনিবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ক্যাডার বঞ্চিতরা। ৩৪তম বিসিএস কোটা বৈষম্যের শিকার ক্যাডার বঞ্চিত ফোরাম এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দুটি দাবি তুলে ধরেন বক্তারা। এর মধ্যে নির্বাহী আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত আদেশটি বাতিলের দাবি জানান। দ্বিতীয়ত নতুন নির্বাহী আদেশে ৩৪তম বিসিএস কোটার জন্য সংরক্ষিত ৬৭২টি শূন্য পদে বৈষম্যের শিকার প্রার্থীদের থেকে মেধার ভিত্তিতে সুপারিশের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্যাডার পদ বঞ্চিত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) এমডি কোর্সে প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক তফিজুল ইসলাম।
এই চিকিৎসক বলেন, বঞ্চনা মাথায় নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে লড়ছি। আমরা হাল ছেড়ে দেইনি। সফল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। ২০১৩ সালে আমাদের জার্নি শুরু হয়েছিল, এখনও চলমান। শেষ অবধি সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
দেশের চাকরির পরীক্ষার ইতিহাসে ৩৪তম বিসিএস কলঙ্কজনক অধ্যায় উল্লেখ করে ডা. তফিজুল ইসলাম বলেন, কোটা সংরক্ষণের নামে ৬৭২টি পদ খালি রাখে তৎকালীন স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ নিয়ে বারবার আন্দোলন করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছে, যারা বৈষম্যের শিকার, তারা কিভাবে সরকারি চাকরি পায়, সেটি দেখে নেবে স্বৈরাচার সরকার।
এই ক্যাডার প্রত্যাশী চিকিৎসক আরও বলেন, আমরা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমরা চাই, আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আমরা প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছি, এখনও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম জনি বলেন, আমরা সরাসরি কোটা বৈষম্যের শিকার। বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ক্যাডার পদ পাইনি। অন্যান্য বিসিএসে কোটা সংরক্ষণ করা হয়নি। কিন্তু ৩৪তম বিসিএসে কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি সাংবিধানিক অধিকারহরণ।
সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ক্যাডারপদ বঞ্চিত প্রার্থীরা সরাসরি কোটা বৈষম্যের শিকার। তারা পিএসসির ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে ৩৪তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০১৫ সালের ২৯ আগস্ট ৩৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে পিএসসি। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ সকল ধাপে কৃতকার্য ৮৭৬৩ জন প্রার্থী থেকে পিএসসি ২১৫৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডার পদে সুপারিশ করে। অবশিষ্ট ৬৫৮৪ জন প্রার্থী কৃতকার্য হওয়ার পরও ক্যাডার পদে সুপারিশ করা হয়নি। অথচ ৩৫টি ক্যাডার পদে কোটার জন্য ৬৭২টি পদ সংরক্ষণপূর্বক শূন্য রাখা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ৩৪তম বিসিএসের আগে ও পরে আর কোনো বিসিএসে কোনও ধরনের কোটা সংরক্ষণ করা হয়নি এবং কোটার শূন্য পদে উত্তীর্ণ প্রার্থী থেকে মেধা অনুযায়ী পূরণ করা হয়। তাই ৩৪তম বিসিএস-এ ক্যাডারে কোটা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক।
লিখিত বক্তব্যে ক্যাডার বঞ্চিতরা বলেন, ক্যাডারবঞ্চিত প্রার্থীদের আন্দোলনের ফলে গত ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ৩৪তম বিসিএসের প্রাধিকার কোটায় সংরক্ষণ নীতি শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ৬৭২টি শূন্য পদ ৩৫তম থেকে পূরণের আদেশ দেওয়া হয়। এটি সম্পূর্ণরূপে অসাংবিধানিক, অমানবিক, বৈষম্যমূলক এবং তৎকালীন সরকারের স্বৈরাচারী চিন্তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। কারণ ৬৭২টি শূন্য ক্যাডার পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত সংখ্যাক প্রার্থী মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে দেশে কোটাবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে বলা হয়, ৩৪তম বিসিএসের কোটা বৈষম্যের শিকার প্রার্থীরাই ২০১৩ ও ২০১৫ সালে শাহবাগে প্রথম এই কোটাবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্রভাবে সংগঠিত হয়। এ আন্দোলনের মূলভিত্তি ছিল, কোটা প্রথার বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং পরবর্তীতে তা হাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
আমরাই সাকিব ভাইয়ের শূন্যতা পূরণ করব : তাওহীদ হৃদয়
সবাই ভাবে আমি হয়তো গোসল করি না: অনন্যা পাণ্ডে
ওই নায়ক প্রতি রাতে আমার শোবার ঘরে আসতে চাইতেন: মল্লিকা শেরাওয়াত
মন্ত্রণালয় থেকে প্রকৃত জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে