শেরপুরে পানিবন্দি লাখো মানুষ, মৃত্যু ৫

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:০৩ এএম

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের তিনটি উপজেলা। এসব উপজেলায় পানিবন্দি প্রায় লাখো মানুষ। পানির তোড়ে ভেসে গিয়ে ও ডুবে নারী, কিশোরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, সবজির ক্ষেত, গবাদি পশু এবং বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচাপাকা ঘরবাড়ি, কয়েকটি মহাসড়কসহ অসংখ্য গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়ক। কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা। সংকট তৈরি হয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয়জল এবং গো-খাদ্যের।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হয়ে চলে গতকাল শনিবার পর্যন্ত। এই তিন দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে বিপদসীমার ওপরে উঠে গেছে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। এসব নদীর বাঁধ উপচে এবং অসংখ্য স্থান ভেঙে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে বানের পানি। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ ও সদর বাজারসহ অন্তত সাতটি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি ইউনিয়নগুলো ছাড়াও নদীতীরবর্তী অন্যান্য ইউনিয়ন ও নিম্নাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোও প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তত ১২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার অভয়পুর গ্রামের বাছির উদ্দিনের ছেলে হাতেম আলী (৩০) ও আলমগীর (১৬) চেল্লাখালী নদীর বাঁধ ভেঙে স্রোতের পানিতে ভেসে যায়। গতকাল পানি কিছুটা কমে আসায় বিকেল ৪টার দিকে কুতুবাকুড়া গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে ওই দুই সহোদরের লাশ উদ্ধার করা হয়। একইভাবে শুক্রবার বন্যার পানিতে ডুবে মারা যান উপজেলার বাঘবেড় বালুরচর গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী ওমিজা বেগম। একই দিন সন্ধ্যায় খলিসাকুড়া গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে মারা যান বৃদ্ধ ইদ্রিস আলী। এ ছাড়া আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তার নামপরিচয় পাওয়া যায়নি। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও তিনজন।

এদিকে বানভাসি মানুষকে উদ্ধারে শুক্রবার থেকেই কাজ করছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গতকাল দিনভর স্পিডবোট, নৌকা, ভেলা, টিউব ইত্যাদি নিয়ে চলে আটকে পড়াদের উদ্ধার অভিযান। এ ছাড়া শুকনো খাবারসহ অন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বানভাসিদের মাঝে। এসব কাজে অংশ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

এদিকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত নিম্নাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটতে দেখা গেছে। কেউ আত্মীয়বাড়ি, পাকা রাস্তা, আবার কেউ বা ছুটেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।

শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শেরপুরের বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

আটাশিকে ছাড়িয়েছে এবারের বন্যা : ’৮৩, ’৮৮, ’৯৩ সালের চেয়েও এবারের বন্যার ভয়াবহতা অনেক বেশি বলছেন নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দারা। নালিতাবাড়ী উপজেলা ঘুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের বন্যার পানি বেশি হয়েছে এবং নালিতাবাড়ীতে বন্যার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। নালিতাবাড়ী উপজেলার উজানের নাকুগাঁও, নয়াবিল ইউনিয়নের পানি কমলেও নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার শিমুলতলা, ঘাকপাড়া, ম-লিয়াপাড়া, ভজপাড়া ও সন্ন্যাসীভিটা, কলসপাড়, জুগানিয়া, মরিচপুরান, পৌরসভাসহ নালিতাবাড়ীর ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজিরখামার সড়ক, নালিতাবাড়ী-ধারা সড়ক। এ ছাড়া জেলার প্রতিটি শহরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। নালিতাবাড়ী শহরের মনজুরুল ইসলাম বলেন, ’৮৩, ’৮৮ এবং ’৯৩ সালে যে বন্যার হয়েছিল, এর থেকে এবার পাহাড়ের ঢল এবং বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি। এত পরিমাণ বন্যার পানি আগে কেউ কখনো দেখেনি।

শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, শেরপুরের বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের শুকনো খাবার ও গো-খাদ্যের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ময়মনসিংহে দুই উপজেলা প্লাবিত : ময়মনসিংহের ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাটে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। নেতাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে আকস্মিক বন্যায় হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়া উপজেলায় কমপক্ষে ৮০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।

হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়া উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার বিকেল থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও গতকাল শনিবার দুপুর থেকে আবারও বৃষ্টি শুরু হয়। এ দুই উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে আমন ফসল। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পানিবন্দি মানুষের। তলিয়ে গেছে মাছের খামার। হঠাৎ বাড়িঘরে পানি উঠে যাওয়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ রয়েছে চরম বিপাকে। ক্রমাগত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এ দুই উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড় ও গবাদি পশু নিয়ে অনেকেই ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। এলাকাগুলো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় মোবাইল ফোনের চার্জ ও নেটওয়ার্কও বিড়ম্বনায় পড়েছে।

গতকাল হালুয়াঘাট উপজেলার ভুবনকুড়া, গাজিরভিটা, ধুরাইল ও সদর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় পানি বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া পৌর এলাকার মিশন স্কুল রোড, হালুয়াঘাট-নালিতাবাড়ী সড়কের পাগলপাড়া গ্রাম, জয়িতা মহিলা মার্কেট, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খাদ্যগুদাম, থানাসহ বিভিন্ন জায়গা তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

হালুয়াঘাটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুনাব আলী বলেন, তার বাড়ির সবকিছুই পানিতে তলিয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে সেন্টএন্ড্রুজ উচ্চবিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাননি।

ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে। সাধারণ মানুষ কষ্টের মধ্যে পড়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।

হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এরশাদ আলী জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রাম বন্যাকবলিত। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে পুকুর এবং মাটির রাস্তা। খাবার পানি সংকটে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে প্রশাসনসহ স্থানীয় নেতারা দায়িত্ব পালন করছেন।

ধোবাউড়ার ইউএনও নিশাত শারমিন জানান, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রাম এখন বন্যাকবলিত। বাড়িঘরে পানি উঠে যাওয়ায় স্কুলসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিচ্ছে মানুষ। দুদিনের টানা বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক পরিবার।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের সাহায্যের জন্য সরকারিভাবে ১০ টন করে ২০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরে ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। এখন পর্যন্ত এ দুই উপজেলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ায় নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে : অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এবং কয়েকটি নদীর বাঁধ ভেঙে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট এবং ধোবাউড়া প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ। এ দুই উপজেলার ছোট-বড় প্রতিটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। গত শুক্রবার বিকেল ৪টায় কিছুটা কমে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। গতকাল সকালে বৃষ্টি কিছুটা থামলেও দুপুর থেকে আবারও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে করে নিম্নাঞ্চলে দুই থেকে তিন ফুট করে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হালুয়াঘাটের পাঁচটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে করে দর্শা, মেনংছড়া, বোরারঘাট ও সেওলা নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। পরে রাতেই বিভিন্ন স্থানে নদীর বাঁধ ভেঙে ও বাঁধ উপচে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এ ছাড়া ভোগাই নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ উপচে ও পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে হালুয়াঘাট পৌর শহর, সদর ইউনিয়নসহ হালুয়াঘাট বাজারের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

অন্যদিকে, শুক্রবার বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর, জিগাতলা এবং পঞ্চনন্দপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্ট নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে পুরো উপজেলা প্লাবিত হয়।

ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখলাক উল জামিল বলেন, দুই উপজেলার নদীগুলোয় পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলেও পানি কমতে সময় লাগবে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শেরপুরে বন্যার পানির মাছের হাট : বন্যার পানিতে ভেসে আসা মাছের হাট বসেছে শেরপুরে। শেরপুর শহর থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই হাটে আসে মাছ কিনতে। মাছ বিক্রেতারা জানান, মাছের ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। এখান থেকে মাছ কিনে ক্রেতারাও খুশি।

শেরপুর শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী অভিমুখী কয়ে তিন রাস্তার মোড়ে বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা মাছের হাট বসেছে। শেরপুর শহর এবং জামালপুর শহর থেকে কেউ বাইকে, কেউ প্রাইভেট কারে, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ও আবার কেউ রিকশায় চড়ে আসছেন বন্যার পানি দেখতে। তারাই এখান থেকে মাছ কিনছেন। শিং, মাগুর, পুঁটি, বৌমা, গতা, বাম এবং বিভিন্ন মাছের ঘের থেকে ভেসে যাওয়া রুই, কাতলা, কার্ফু, পাঙাশসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ বিক্রি হচ্ছে এই হাটে।

দেওয়ানগঞ্জে জিঞ্জিরাম নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়িয়েছে : ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাথরের চর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসলের তেমন ক্ষতি না হলেও রোপা আমন ও সবজির কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবে এবং ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে জিঞ্জিরাম নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও দুই-একদিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত