এ বছর পাহাড়ে হচ্ছে না কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ০২:২৫ এএম

বিদ্যমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে এ বছর রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দান উৎসব উদযাপন না করার ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত ভিক্ষু সংঘ। গতকাল রবিবার দুপুরে রাঙ্গামাটি বনরূপা মৈত্রী বিহারে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারও। সংবাদ সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলার ১৫টি বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বিহারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাটসহ শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় চার আদিবাসী ব্যক্তি নিহত হন। আহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর এভাবে বিনা বাধায় সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পবিত্র বিহারে আক্রমণ ও বুদ্ধমূর্তি ভেঙে ফেলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এ ধরনের ঘটনা বারবার সংঘটিত হলেও প্রশাসনের আচরণ রহস্যজনক ও পক্ষপাতদুষ্ট। এ পর্যন্ত যতগুলো সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে কোনোটার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি।’

শ্রদ্ধালংকার মহাথের বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষুসংঘ বর্তমানে খুবই উদ্বিগ্ন-শঙ্কিত হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং প্রশাসনের ওপর আস্থাহীনতা বোধ করছি। এ রকম চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষুসংঘ আসন্ন পবিত্র ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে কোনো উৎসাহ বোধ না করায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শ্রদ্ধাবান দায়িক-দায়িকা ও পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে আলোচনাক্রমে চলতি বছরের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান না করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।’

প্রবারণা পূর্ণিমার পর থেকে এক মাস ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ২০০ বিহারে ধারাবাহিকভাবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় কাপড়) তৈরি করা হয়। আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান চলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত