পতিত স্বৈরাচার আবার পুনর্বাসন হলে বাংলাদেশ হবে ‘জল্লাদের উল্লাস ভূমি’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ সোমবার রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণকালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কেউ কেউ যখন স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের কথা বলেন তখন বিপদজনক বার্তা যায় জনগণের কাছে। যখন কোনো উপদেষ্টা বলেন তাদের নিজেদের ঘর গুছানোর জন্য সেটি অত্যন্ত বিপদজনক বার্তা দেয়। যারা এতদিন গুম-খুন আর আয়নাঘরের সংস্কৃতি তৈরি করেছিল তারা যদি পুনর্বাসন হয় তাহলে এদেশে আর মানুষ বসবাস করতে পারবে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সেক্ষেত্রে এই দেশ হবে জল্লাদের উল্লাস ভূমি। এখানে গণতন্ত্র, কথা বলা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চিরদিনের জন্য কবরস্থানে চলে যাবে। পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের সম্পর্কে সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির এই নেতা।
রিজভী আহমেদ এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নিয়োগ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি নানা কায়দায় সরকার ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের সুবিধাভোগী দোসরদের পুনর্বাসন করছে। কালকেও বলেছি, আজকেও বলছি, একজন রাষ্ট্রদূত কাতারে ছিলেন। কাতারে কারো (প্রবাসী) যদি ভিসার মেয়াদ শেষ হতো সেগুলোকে তিনি নবায়ন করতেন না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, তিনি (রাষ্ট্রদূত) খবর নিতেন ওই সমস্ত লোক কোন দল করেন, কাদের সমর্থক? কারণ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অধিকাংশ প্রবাসী বিএনপির সমর্থক। তাদের তিনি (ওই রাষ্ট্রদূত) নানাভাবে হয়রানি করেছেন, ভিসা নবায়ন করেননি। সেই লোককে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে বলে শুনতে পাচ্ছি। তাহলে অন্তর্বর্তী সরকার কাদের পুনর্বাসন করছে? যারা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, যারা শহীদের লাশকে আজকে অপবিত্র করছে, শহীদের আত্মদান ও রক্তকে যারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে তাদের?
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে এই বিষয়গুলো দেখতে হবে। তাদের প্রতি জনগণের যে আস্থা সেই আস্থা যাতে ফলপ্রসূ হয় তা তাদের দেখতে হবে। কারা কাতারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র সচিব বানিয়েছে?
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘাপটি মেরে থাকা ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একটা সরকারে বিভিন্ন ধরনের লোক থাকতে পারেন, নিরপেক্ষ লোকও থাকতে পারেন যারা কাজ করবেন। কিন্তু যারা শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে সমর্থন করে বিরোধী দল দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে তাদের যদি আজকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে এই সরকার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
রিজভী বলেন, দেশে এখনো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে সমস্ত নিয়ম-কানুন দরকার সেগুলো এখনো করা হয়নি। নির্বাচন কমিশন গঠন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ আরও যেসব সংস্কার কাজ আছে সেগুলো এখনো করা হয়নি। তার আগে যদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে একজন বিতর্কিত এবং শেখ হাসিনার একজন সহযোগীকে বসানো হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ওইরকম বিতর্কিত ব্যক্তিদের বসানো হয়, তাহলে এই দেশ, এই দেশের জনগণ এবং বিপ্লবে দেড় হাজারেরও বেশি শহীদকে অবমাননা করা হবে।
এ সময় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সহ স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক পারভেজ রেজা কাকন, সহ প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন, মেহেবুব মাসুম শান্ত, আরিফুর রহমান তুষার, ডা. আউয়ালসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসায় নোবেলজয়ী ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রুভকুন কে?
সাবের হোসেন চৌধুরী ৫ দিনের রিমান্ডে
বেনাপোল বন্দরে ৫ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ