যশোর শহর ও উপশহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া যশোর-ঢাকা মহাসড়কের মনিহার অংশের এক কিলোমিটার চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছে। সড়কের দুই পাশের পিচ, পাথর ও খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে পানি। এতে সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা। শুধু যশোর-ঢাকা মহাসড়ক নয়, এ অবস্থা যশোরের আরও তিন মহাসড়কেরও।
যশোর থেকে ১৮ রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে। এ জেলায় রয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দর, নওয়াপাড়া নৌ বন্দর, সবজি ও ফুলের বড় মোকাম। কিন্তু জেলার প্রতিটি মহাসড়কের করুণদশা। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির পর তা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সড়কগুলোর যেখানে যান চলাচলের চাপ বেশি সেখানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, যশোর-খুলনা মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের নাভারণ থেকে বাগআঁচড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার, যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া যশোর-ঢাকা মহাসড়কের বাকি অংশের অবস্থাও বেহাল।
শাহা আলম নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘বিগত দিনে এসব সড়ক সংস্কারের নামে টেন্ডারবাজি এবং দুর্নীতি হয়েছে। যার কারণে বিগত কয়েক বছর ধরে যশোরের বিভিন্ন মহাসড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও তা মেরামত ও স্থায়ী সংস্কার করতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে সড়ক বিভাগ।’
চুড়ামনকাটি বাজারের মুদি দোকানি মফিজুর রহমান বলেন, ‘গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের চুড়ামনকাটি বাজার অংশের এই মহাসড়কের বেহালদশা। বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন সময় খোয়া বিছিয়ে দিয়ে মেরামত করে গেলেও তা টেকসই হয়নি। সর্বশেষ কিছুদিন আগে গোটা বাজার অংশের সড়কটিতে ইটের সোলিং করে রেখে চলে গেছে। এখন প্রতিনিয়ত এখানে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।’
দেলোয়ার ফরাজি নামে এক সিএনজি চালক বলেন, ‘মহাসড়কে খানাখন্দ থাকা একটি দুর্ভোগ। আরেকটি দুর্ভোগ হলো খানাখন্দগুলোতে ইটের সোলিং দেওয়া। এটা কোনো সমাধান নয়। এতে যাত্রীদেরও ভোগান্তি হয়। ইটের খোয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া সড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনগুলো বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়।’
রিফাত হোসেন নামে আরেক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘দুদিন আগেও চুড়ামনকাটি বাজারে ইটের সোলিংয়ের ওপর একটি মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন দুর্ঘটনা অহরহ ঘটছে। মহাসড়কগুলোতে জায়গায় জায়গায় এমন ইটের সোলিং আর খানাখন্দ দুর্ঘটনার মাত্রা এবং প্রাণহানির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘এ বছর বর্ষায় যশোরের বিভিন্ন মহাসড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যশোর-খুলনা, যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের বেশ কিছু অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো আমরা জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে থাকি। এ বছর যশোর-খুলনা মহাসড়কে আড়াই কিলোমিটার রাস্তার ঢালাই কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া বিভিন্ন মহাসড়ক জরুরি সংস্কারের জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে ৭ কোটি টাকার চাহিদা ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জরুরি সংস্কারের ক্ষেত্রে মহাসড়কগুলোতে ইটের কাজ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বর্ষা মৌসুমে বিটুমিনের কাজ করা যায় না, কারণ তা টেকসই হয় না। এ সময় জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আমরা সড়কগুলো জরুরি ভিত্তিতে ইট দিয়ে প্রাথমিক সংস্কার কাজ করে থাকি।’
