সরকারিভাবে ২১ হাজার ৫৫০ টাকা বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও অর্ধেকেরও কম বেতনে চাকরি করছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ৫৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত দুই বছর ধরে হাসপাতালের এসব পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতনের বড় একটা অংশ লুটেফুটে খেয়ে আসছেন ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর অন্যতম ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত শরীফ উল্যাহ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন কর্মচারী বেতন পাওয়ার কথা ২১ হাজার ৫৫০ টাকা অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বেতন পাচ্ছেন ৮ হাজার টাকা। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা বলছেন, রোস্টার ভিত্তিক ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেও শুধুমাত্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় কাজ করার কারণে বেতনের অর্ধেক টাকাও পান না তারা। বেতনের বিষয়ে কথা তুললেই চাকরি হারানোর ভয় থাকে তাই প্রতিবাদও করতে পারেন না তারা।
রবিবার (৬ অক্টোবর) থেকে তিন মাসের বকেয়া বেতন ও চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। হাসপাতালের কাজ বন্ধ রেখে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে কর্মবিরতি পালন করেন আউটসোর্সিং কর্মচারী। দাবি না মেনে নিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা।
জানা যায়, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন ৫৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন। তাদের বেতন দেন ৮ হাজার টাকা। সে বেতনও বন্ধ গত ৪ মাস ধরে। এদিকে হাসপাতালের চাহিদা পূরণের জন্য আরও ২৯ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলেও এদের কাউকেই বেতন-ভাতা দেন না ঠিকাদার। রোগীদের স্বজন থেকে ১০/২০ টাকা চেয়ে নিয়ে কোনো রকমে পেট চালাচ্ছেন তারা। তাদের অভিযোগ দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অল্প-স্বল্প বেতন দিয়ে সরকারের বরাদ্দের অর্ধেকরও বেশি টাকা নিজেদের পকেটে ভরে নেয়।
ঝর্ণা রক্ষিত নামে এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলেন, ২০০২ সালে মাত্র আড়াই হাজার টাকা বেতনে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ঝাড়ুদারের কাজ শুরু করি। প্রায় ২২ বছর কাজ করে গেলেও আমার চাকরি স্থায়ী করণ হয়নি। অথচ আমাদের দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকে ঠিকই শরীফ উল্যাহ (ঠিকাদার) ২১ হাজার টাকা বেতন নিয়ে আমাদের দিত ৮ হাজার টাকা। সে বেতনও পাইনা গত ৪ মাস । আজ নয় কাল করে আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন তাই আজ বাধ্য হয়ে কর্মবিরতিতে নেমেছি।
ইলিয়াস নামে এক আউটসোর্সিং কর্মচারী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আমাদের চুষে খেয়েছে শর্শদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানে আলম। তিনি আমাদের বেতন দিতেন ৩ হাজার ২০০ টাকা। পরে আমরা আন্দোলন করলে তিনি ৬ হাজার টাকা বেতন দেন। এরপর শরীফ উল্যাহ এসে ৮ হাজার টাকা করলেও সরকার পতনের আগ থেকে আমাদের বেতন বন্ধ করে রেখেছে। আমাদের চাকরি সরকারি করন করা হবে বলে দীর্ঘ এক যুগ পার হয়ে গেছে। পরিশ্রম করি আমরা টাকা খায় ঠিকাদাররা।
বিবি কুলসুম বলেন, আমার একটা ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। গত ৩ মাস বেতন পাই না। ছেলের মাদ্রাসা খরচও দিতে পারছি না।
রুবি আক্তার বলেন, যে হাতে ভাত খাই, সে হাতে মানুষের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করি। এরপরও ন্যায্য বেতন পাই না। আমাদের এত কষ্টের টাকা পকেটে নিতে ঠিকাদারের বিবেকে বাঁধে না।
হাসপাতালের মর্গে দায়িত্বরত আবদুর রহিম বলেন, গত ত্রিশ বছর ধরে চাকরি স্থায়ীকরণের গল্প শুনেছি। বাস্তবে এর কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। ৫৩ জন মানুষের অক্লান্ত শ্রমে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে অথচ তাদের পেটে ভাত নাই, তাদের সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পথে। আমরা অতিদ্রুত এর একটা সমাধান চাই। আমরা আমাদের বকেয়া বেতন ও চাকরি স্থায়ীকরণ চাই।
এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক আবুল খায়ের মিয়াজি কথা বলতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আরএমও ডা. আসিফ ইকবাল বলেন, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারীরা গত জুলাই মাস থেকে তাদের বেতন পাচ্ছেন না। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তাদের বেতন বিষয়ক সকল ডকুমেন্টস পাঠিয়েছি। আশা করছি কর্তৃপক্ষ খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন।
এবার পূজায় মিলছে টানা চারদিনের ছুটি
আজকের দিনটি কেমন যাবে আপনার?
মাথাপিছু জিডিপিতে বিশ্বের ১০ ধনী দেশ কারা?
গাজা যুদ্ধের বর্ষপূর্তিতে ইসরায়েলে ১৩৫টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হিজবুল্লাহর
সচিবদের ২৫ নির্দেশনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশিকে গুলি করে মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ
সাবেক মেয়র তাপসের ব্যাংক হিসাব জব্দ
অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার সময় বিজিবির হাতে আটক ৫