দলীয় প্রভাব বিস্তার, বিভিন্ন প্রতারণার কৌশলে কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির মাঠ স্বাস্থ্য সহকারী গোলাম সারোয়ার। সরকারি খাস জমি নামে-বেনামে নথিভুক্ত, দখল, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, সরকারি ইজারার কর ফাঁকিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও আপন ভাইদের জমি দখলের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের তৃতীয় শ্রেণির মাঠ স্বাস্থ্য সহকারী পদে যোগদেন গোলাম সারোয়ার। নিয়মিত অফিস করতেন না তিনি । মাঠ স্বাস্থ্য সহকারীর পদে চাকরি করলেও কয়েক বছরে কোটি টাকার বেশি সম্পত্তির মালিক হয়ে যান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, গোলাম সারোয়ার উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ভিপি নুর নবী ও স্থানীয় যুবলীগ নেতার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাস জমি নামে-বেনামে নথিভুক্ত, দখল, সরকারি ইজারার কর ফাঁকি দেওয়া ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজে জড়িত ছিলেন। আর এর মাধ্যমে কয়েক বছরে কোটি টাকা মালিক হন গোলাম সারোয়ার। ভুলুয়া নদীর পাড়ের খাস জমিতে ১০ রুমের মার্কেটও তৈরি করেছেন তিনি। এলাকার সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কীভাবে এতো সম্পত্তি ও টাকার মালিক হলেন?
স্থানীয়রা আরও জানান, গোলাম সারোয়ার এলাকায় বেশ দাপটের সাথে দলীয় প্রভাবে এলাকা ও থানায় দালালি করে শালিশ-নালিশ করেন। সরকারি দায়িত্ব অবহেলা এবং বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে রাজনীতির মাঠ সরব রেখেছেন। সাবেক আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ ও যুবলীগের এক নেতার ছত্রছায়ায় রেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। রাজনীতির প্রভাবে কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বনে যান। তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের বিরোধী নেতা-কর্মীদের ব্যাপক মারধর ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও চর কাদিরা মৌজার নথিভুক্ত জমি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নিজের নামে নেন। ১একর ১২শতাংশ জমি নামজারি খতিয়ান ভুক্ত যার নম্বর ১৬৩৭/১৯। সেখানে 'সারোয়ার মার্কেট' প্রতিষ্ঠা করেন। মার্কেট করতে গিয়ে ভুলুয়া নদীর লাখ টাকা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মাত্র কয়েক বছরে ১০-১২ একর সরকারি নথিভুক্ত জমি, খামার, মাছের ঘেরের মালিক হন। এছাড়াও চর কাদিরা মৌজায় তার স্ত্রী ও বিভিন্ন আত্মীয়দের নামে সরকারের বন্দোবস্ত জমি কৌশলে ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সারোয়ারে আপন ভাই মো. সোহাগ জানান, সারোয়ার তার বাবা-মার জমি জোর পূর্বক দখল করে নিয়েছেন । সারোয়ারের চাকরির জন্য জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ভাইদের জমি জোর করে দখল করে কোটি টাকার মালিক হয়েছে। বাবার জমি-জমা ও অর্থ দিয়ে তাদের পরিবার চলে। সরকারি নথিভুক্ত জমি মায়ের নামে ছিল। সেই জমিও সারোয়ার নিজের নামে করে নিয়েছেন।
এই বিষযে গোলাম সারোয়ার জানান, ১৯৯৬-২০০১সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নথিভুক্ত জমি এগুলো। তার মা দীর্ঘ ১৫ বছর তার কাছে থাকায় ভরণ-পোষণ বাবত তাকে এক একর জমি হেবা দলিলে লিখে দেন। এছাড়াও তিনি কিছু জমি লিজ নিয়ে খামার, মাছের ঘের করেন। তবে তিনি কোন গ্রেড বা শ্রেণিতে চাকরি করেন তা জানেন না।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের দেশ রূপান্তরকে জানান, গোলাম সারোয়ার ৩য় শ্রেণির মাঠ স্বাস্থ্য সহকারীর দায়িত্বে রয়েছেন। তার নামে সরকারি খাস জমি নথিভুক্তের অভিযোগ পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুদ্দিন মো.রেজা দেশ রূপান্তরকে জানান, এসব বিষয়ে জানা নেই, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘূর্ণিঝড় মিলটন: ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎহীন ৩২ লাখ পরিবার, নিহত ১০
পাকিস্তানে বন্দুকধারীর হামলায় ২০ শ্রমিক নিহত
পূজায় যাওয়ার সময় নৌকা ডুবে ফুফু-ভাতিজার মৃত্যু
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দিতে দীর্ঘ যানজট
পূজামণ্ডপে ইসলামী গান বিতর্কে আটক ২