লক্ষ্মীপুরে পারিবারিক বিরোধে মাতব্বরকে গুলি, অভিযুক্ত পলাতক

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে এলাকার এক প্রবীণ মাতব্বরকে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী (৭০)।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী রশিদপুর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমান ও মৃত কদর বানুর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর অভিযুক্ত সৈকত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, তারা মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী এক দম্পতির পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায় এলাকার মাতব্বর হিসেবে নজরুল ইসলাম পাটোয়ারী ভূমিকা রাখেন। বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন অভিযুক্ত সৈকত। একপর্যায়ে তিনি পেছন থেকে একটি পিস্তল বের করে নজরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলি তার বাম হাতে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শামীমুর রহমান জানান, আহত ব্যক্তির বাম হাতে গুলি লেগেছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেন ফারুকের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করায় ফারুকের ছেলে সৈকত ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সৈকতের বাবা ইসমাইল হোসেন তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা আহত নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

আহত নজরুল ইসলামের অভিযোগ, অভিযুক্ত সৈকত একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তি। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এদিকে ছেলে সৈকতের বিরুদ্ধে ওঠা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়ে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘সৈকত আগে সন্ত্রাসী ছিল না। অনেক টাকা খরচ করে তাকে বিদেশে পাঠিয়েছি, বিয়ে করিয়েছি, ব্যবসাও ধরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু কীভাবে তার হাতে অস্ত্র এলো, কেন সে নিজের দাদাকে গুলি করল—তা আমি বুঝতে পারছি না। এখন ছেলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে আমিও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, রশিদপুর এলাকায় এক বৃদ্ধ সন্ত্রাসীদের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত