দিনাজপুরে চলতি বছর আগাম আলুর আবাদ পিছিয়ে গেছে। সময়মতো বিএডিসির আলুর বীজ না পাওয়ায় ১৫ দিন আগাম আলুর চাষাবাদ পিছিয়ে গেছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। এমনকি টাকা দিয়েও ভালো মানের বীজ পাচ্ছেন কৃষকরা। এমনকি বিএডিসি কখন আলুর বীজ সরবরাহ করবে, তাও জানেন না তারা।
দিনাজপুর সদরের উলিপুর, মাশিমপুর, আউলিয়াপুর, ঘুঘুডাঙ্গা, গৌরীপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি আগাম আলুর চাষ করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধান কেটে আগাম আলুর চাষের জন্য জমি প্রস্তুতি করেছেন কৃষকরা। কিন্তু বীজ-সংকটের কারণে জমি এখন পর্যন্ত ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ভালো মানের বীজ পেলেই জমিতে রোপণ করবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
গৌরীপুর গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জমি আলু রোপণের জন্য প্রস্তুত করেছি। কিন্তু আলুর বীজ না পাওয়ায় রোপণ করতে পারছি না। বিএডিসির বীজ আমরা কখনোই পাইনি। স্থানীয় বাজার থেকে বীজ কিনে আবাদ করি। এর মধ্যে বীজ খারাপ বের হলে তো পথে বসতে হয়। টাকা নিয়ে প্রস্তুত আছি কিন্তু ভালো মানের বীজ পাচ্ছি না। বিএডিসি বীজ দিলে আমরা নিতে চাই। কিন্তু বিএডিসি আরও দুই মাস পর বীজ দিতে চায়। তখন আমরা কোন ক্ষেতে রোপণ করব?’
দিনাজপুর বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সরকার সানসাইন, কারেজ ও লেডিরোসেটা জাতের আলুর বীজ গ্রেড-এ ডিলার পর্যায়ে ৫৮ টাকা ও চাষিপর্যায়ে ৬৪, গ্রেড-বি ডিলার পর্যায়ে ৫৬ এবং চাষিপর্যায়ে ৬২, আন্ডার সাইজ ডিলার পর্যায়ে ৫৮ ও চাষিপর্যায়ে ৬৪ এবং ওভার সাইজ ডিলার পর্যায়ে ৫২ ও চাষিপর্যায়ে ৫৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। আর স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আলুর বীজ ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা করে কিনছেন কৃষকরা।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেলায় ৪৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি থেকে আলুর উৎপাদন হয়েছিল ১১ লাখ ৫৯ হাজার ১৭৫ টন। জেলার আলুর উৎপাদনের মধ্যে ১৫ শতাংশ আগাম আলুর আবাদ করা হয়।
দিনাজপুর বিএডিসি (বীজ বিপণন) উপপরিচালক আবদুর রশিদ বলেন, ‘চলতি বছর ৪৩২ টন আগাম আলুর আগাম বীজ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে ডিলার পর্যায়ে বিতরণ শুরু হয়েছে। অন্যবারের তুলনায় চলতি বছর এক মাস আগেই আগাম আলুর বীজের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিনে দিনাজপুরে বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাটি তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের আগে আলুর বীজ রোপণ করলে ওই বীজ বৃষ্টিজনিত কারণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের পর আলুর বীজ দেওয়া হয়।’
