ছয় বছর পর অবশেষে রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করা হলো জম্মু ও কাশ্মীর থেকে। সেখানে এবার গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করা হবে। গত শুক্রবারই জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন ওমর আবদুল্লাহ।
জানা যায়, আগামী সপ্তাহে জম্মু-কাশ্মীরের নতুন মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে পারেন ওমর আবদুল্লাহ। জম্মু-কাশ্মীরের ৯০ আসনের বিধানসভা আসনে গত কয়েকদিন আগেই ভোট হয়। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই নির্বাচন হয়। স্বভাবতই এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছিল অনেক বেশী। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়। এরপরই ওমর আবদুল্লাহ লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানালে জম্মু-কাশ্মীর থেকে তুলে নেওয়া হয় রাষ্ট্রপতি শাসন।
এই আবহে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষরিত নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাতে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন, ২০১৯-এর ৭৩ নং ধারা, সংবিধানের ২৩৯ ও ২৩৯এ ধারা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগের আগে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সেই সময় সেখানে জারি হয়েছিল কার্ফিউ। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সেনায় ভরে গিয়েছে পুরো উপত্যকা। তবে তারও আগে থেকেই সেখানে জারি ছিল রাষ্ট্রপতি শাসন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরে জম্মু ও কাশ্মীরে পিডিপির সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করেছিল বিজেপি।
তবে সেই সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বিজেপি সমর্থন প্রত্যাহার করেছিল মেহবুবা মুফতির কাছ থেকে। এর জেরে সরকার পড়ে যায়। তখন থেকেই সেখানে জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। তবে ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভেঙে দেওয়া হয়। বিশেষ মর্যাদা হারায় জম্মু ও কাশ্মীর। এমনকী রাজ্যের মর্যাদাও হারায় জম্মু ও কাশ্মীর। বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল।
৯ বছর পর পাকিস্তান যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী