হরিণ শিকার করেই লরেন্সের তালিকায় সালমান? যা জানা গেল

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ১০:১৩ পিএম

মহারাষ্ট্রের প্রবীণ নেতা বাবা সিদ্দিকী খুন হয়েছেন শনিবার রাতে। লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং তার মৃত্যুর দায় স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে বলেছে ‘সালমান খান, আমরা এটা চাইনি। তুমিই তোমার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী। কারোর সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কিন্তু সালমান খান, দাউদকে যে যে সাহায্য করবে, তারা তৈরি থাকো।’

প্রশ্ন উঠেছে, কী কারণে সালমানের ওপর এত রাগ লরেন্সের? কেনই বা তাকে প্রাণে মেরে ফেলতে চায়? শুধু বাবা সিদ্দিকীই নন, সিধু মুসেওয়ালা থেকে কারনি সেনা প্রধান সুখদেব সিং গোগামেদীকেও খুন করে লরেন্সের গ্যাং।

জি নিউজ জানিয়েছে, সালমান ঘনিষ্ঠকে খুন করে আসলে মেগাস্টারকে চাপে রাখতে চায় লরেন্স। ২০২২ সালে প্রথম সালমানকে খুনের হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠায় লরেন্স বিষ্ণোই। সেলিম খানের কাছে পৌঁছায় সেই চিঠি। এরপর ২০২৩ সালে ফের ইমেল মারফত দেওয়া হয় হুমকি। বান্দ্রা পুলিশ স্টেশনে দায়ের হয় অভিযোগ।

এর মধ্যে গত ১৪ এপ্রিল সালমানের বাড়ির সামনে দুই ব্যক্তি এসে গুলি চালিয়ে যান। তারপর থেকে ধীরে ধীরে নতুন করে প্রকাশ্যে আসতে থাকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সালমান হত্যার পরিকল্পনার কথা। সেই মামলায় গ্রেফতার হয় দুই ব্যক্তি। 

এমনকি পানভেলে সালমানের ওপর আক্রমণের ছক কষে ছিল লরেন্সের গ্যাং। কিন্তু সেই ঘটনা ঘটার আগেই পুলিস গ্রেফতার করে নেয় চার শ্যুটারকে। রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে একে-৪৭ দিয়ে গুলি করার পরিকল্পনা করেছিল লরেন্সের টিম। সম্প্রতি বিদেশে এপি ঢিঁলোর শোয়ের বাইরেও গুলি চালায় তারা। কারণ তার একটি মিউজিক ভিডিওতে ছিলেন সালমান। কিন্তু কেন তাকে মারতে চায় লরেন্স?

২০১৮ সালে একটি মামলায় লরেন্স গ্রেফতার হওয়ায় তাকে আদালতে নিয়ে আসা হলে কোর্টে দাঁড়িয়েই তিনি বলেন ‘সালমানকে যোধপুরেই মারা হবে। তারপর ও জানতে পারবে, আমাদের আসল পরিচয় কী?’

এরপর ২০২২ সালে প্রথম হুমকি চিঠি পান সালমানের বাবা। আসলে ১৯৯৮ সাল থেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হিট তালিকায় রয়েছেন সালমান। ওই বছর ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শ্যুটিংয়ে গিয়ে রাজস্থানে একটি কৃষ্ণসার হরিণ মারেন সালমান। আর এই বিষ্ণোই গ্যাং কৃষ্ণসার হরিণকে মাতৃরূপে পূজা করে। সেই সময় লরেন্সের বয়স ছিল ৫ বছর। কিন্তু তখন থেকেই সালমানকে খুন করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন লরেন্স। একাধিকবার হুমকির পর মুম্বাই পুলিশ নিরাপত্তা বাড়িয়েছে মেগাস্টারের।

প্রসঙ্গত লরেন্স বিষ্ণোই পাঞ্জাবের ফিরোজপুর জেলার আবোহারের কাছে ধত্তারানওয়ালি গ্রামের এক সচ্ছল কৃষক পরিবারের ছেলে এবং বর্তমানে তিহার জেলে বন্দী। বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে খুন থেকে চাঁদাবাজি পর্যন্ত দুই ডজন মামলা রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৭০০ শ্যুটারের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত