'খেলোয়াড় লাঞ্ছনায় হাথুরুকে আগেই শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল'

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:৫৪ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সম্পর্ক শেষ হয়েছে। এই বিদায়ের পেছনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। 'ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ একটা দলের বড় ক্ষতি করে। পেশাদার হিসেবে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো স্থান নেই' বিকেলে মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এক কথা বলেন ফারুক আহমেদ। 

ফারুক আহমেদ এবং হাথুরুসিংহের সম্পর্কের টানাপোড়েন বহুপুরনো। ফারুক যখন প্রধান নির্বাচক ছিলেন, তখন থেকেই কোচ হাথুরুর সঙ্গে তার মতবিরোধ ছিল। ২০১৬ সালে প্রধান নির্বাচক পদ থেকে পদত্যাগের আগে এবং পরে হাথুরুসিংহের সঙ্গে তার নানা ইস্যুতে মতবিরোধ হয়েছিল। তখন থেকেই হাথুরুর ফারুক সমালোচনায় মুখর ছিলেন। 

২০২৩ সালের ২১ আগস্ট বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই ফারুক আহমেদ বলেছিলেন যে, হাথুরুসিংহের প্রতি তার অবস্থান আগের মতোই রয়েছে। এরপরও তিনি একাধিকবার হাথুরুর কোচিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমন অবস্থায় বোর্ড সভাপতির ব্যক্তিগত রাগ-ক্ষোভের কারণে হাথুরুকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফারুক জানান, 'ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কোনো প্রভাব এখানে পড়েনি।' তিনি বলেন, 'ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না, কথাটা ওভাবে আমি বলিনি। আমি বলেছি, কোচ হিসেবে হাথুরুর খুব বেশি কিছু দেওয়ার নেই। এটা ছিল একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে আমার মূল্যায়ন।' তিনি আরও বলেন, 'এটা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার নয়। কোচ হিসেবে তাঁর সামর্থ্যে আমি খুব বেশি সন্তুষ্ট ছিলাম না।'

হাথুরুর বিদায়ের পেছনে আরেকটি বড় ইস্যু ছিল তার শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ এবং খেলোয়াড়দের প্রতি অসদাচরণ। ভারত বিশ্বকাপে নাসুম আহমেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গে ফারুক বলেন, 'একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে আপনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে পারেন না। সে কারণে যে শাস্তি পেতে হয়, সেটাই হচ্ছে (ছাঁটাই)। এটা আরও আগে হওয়া উচিত ছিল।' এছাড়াও, হাথুরুর দীর্ঘ সময় ছুটি কাটানো নিয়েও বিসিবির মধ্যে অসন্তোষ ছিল। ফারুক বলেন, 'একজন কর্মী হিসেবে আপনার জবাবদিহি থাকতে হবে। হাথুরু তিন মাসের বেশি ছুটি কাটিয়েছেন, যা নিয়ম ভঙ্গের অংশ।'

ফারুক আহমেদের সভাপতি হওয়ার আগে থেকেই হাথুরুসিংহের কোচিং নিয়ে তিনি গণমাধ্যমে নানা মন্তব্য করেছিলেন। তবে তার মন্তব্যগুলো ছিল পেশাদারিত্বের আলোকে, 'ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না, আমি ওভাবে বলিনি। একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে বলেছি, ওই কোচের বেশি কিছু দেওয়ার নেই। একজন কোচ হিসেবে তার সামর্থ্যে খুব বেশি আস্থা ছিল না।'

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত