স্ত্রী জীবনের পরম সঙ্গিনী। স্বামী-স্ত্রীর মিল মহব্বত যত বেশি হয়, সংসার ততই সুখময় হয়। এজন্য বিয়ের আগে এমন স্ত্রী নির্বাচন করা উচিত, যে তার স্বামীকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত করবে এবং ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখবে। রাসুল (সা.) এমনটিই শিক্ষা দিয়েছেন।
হজরত মাকাল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, স্ত্রী কেমন হবে এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) এক সাহাবিকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা এমন মেয়েকে বিয়ে করো, যারা স্বামীকে অধিক মহব্বত করে এবং অধিক সন্তান প্রসব করে। কেননা আমি (কেয়ামতের দিন) তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে (পূর্ববর্তী উম্মতের ওপর) গর্ব করব।’ (সুনানে আবু দাউদ ২০৫০)
পাত্রী নির্বাচনের সময় কী কী বিষয় লক্ষ রাখতে হবে, রাসুল (সা.) সেসব বিষয় উম্মতকে শিখিয়ে গেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে বিয়ে করা উচিত। সম্পদ, বংশ মর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারী। সুতরাং তুমি দ্বীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে। অন্যথায় তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সহিহ বুখারি)
হাদিসে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। যেগুলো বিয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করে জরুরি। রাসুল (সা.) চতুর্থটি অর্থাৎ দ্বীনদারীকেই মৌলিকভাবে বিবেচনায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এর প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে বলেন, ‘তুমি দ্বীনদারী নারী পেয়ে সফল হও।’ এর দ্বারা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বিবাহের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনে সফলতা নির্ভর করে দ্বীনদারী স্ত্রী পাওয়ার ওপর। অপর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা নারীদের কেবল রূপ দেখে বিয়ে করো না। অসম্ভব নয় যে, এই রূপই তাদের ধ্বংস করবে। তাদের তাদের ধন-সম্পদের কারণে বিয়ে করো না। হতে পারে ধন-সম্পদ তাদের অবাধ্য করে তুলবে। বরং তাদের বিয়ে করবে তাদের দ্বীনদারীর ভিত্তিতে। একজন নাক-কান কাটা কালো দাসীও (রূপসী, ধনবতী, স্বাধীন নারী অপেক্ষা) শ্রেয়, যদি সে দ্বীনদারী হয়। (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮৫৯)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিবাহ করবে কেবল তার ক্ষমতার কারণে, আল্লাহতায়ালা তার অসহায়ত্বই বৃদ্ধি করবেন। যে বিবাহ করবে নরীর সম্পদের লোভে, আল্লাহতায়ালা তার দরিদ্রতাই বৃদ্ধি করবেন। যে ব্যক্তি বংশমর্যাদা দেখে বিয়ে করবে আল্লাহতায়ালা তার হীনতাই বৃদ্ধি করবেন। আর যে ব্যক্তি নিজ দৃষ্টি সংযতকরণ, চরিত্রের হেফাজত ও আত্মীয়তা রক্ষার উদ্দেশে বিয়ে করবে, আল্লাহতায়ালা তার জন্য স্ত্রীকে এবং স্ত্রীর জন্য তাকে কল্যাণময় করবেন।’ (আত তারগিব ওয়াত তারহিব)
হাদিসের শিক্ষা হলো, স্ত্রী নির্বাচনে দ্বীনদারী ও আখলাক-চরিত্রকেই এক নম্বরে বিবেচনায় রাখা। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক স্থায়ী সম্পর্ক। এটি কেবল দ্বীনি আমল-আখলাকের চর্চা দ্বারাই শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণজনক হতে পারে। একজন নেককার স্ত্রীর আমল-আখলাকের প্রভাব তার স্বামীর ওপর পড়তে বাধ্য। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নেককার স্ত্রীর উৎসাহ-অনুপ্রেরণায়, উচ্ছৃঙ্খল ও দ্বীনবিমুখ স্বামীর জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। একই কথা পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বিভিন্ন হাদিসে সে বিষয়েও তাগিদ এসেছে। হজরত রাসুল (সা.) বিবাহের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে দিকনির্দেশ দিয়েছেন তা মেনে সামনে অগ্রসর হতে পারলে আশা করা যায় সবার দাম্পত্য জীবন সুখের হবে।
