দুর্নীতির আখড়া নবারুন বিদ্যালয়, তদন্ত চান স্থানীয়রা

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:০৮ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালিয়াগঞ্জ নবারুন দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুনীর্তি ও সম্পদ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। সদ্য বিলুপ্ত ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী,অভিভাবকসহ স্থানীয়রা বিভিন্ন দপ্তরে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এতে পড়াশোনার মান কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলছে। 

১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গড়ে ওঠে কালিয়াগঞ্জ নবারুণ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়। দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যালয়টির অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী নানা বিষয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী শাসনামলে বিদ্যালয়টি অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার আখড়ায় পরিণত হয়। স্থানীয়রা বলছেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষাব্যবস্থা একদম ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।  

অন্যদিকে এই বিদ্যালয়ের প্রায় ২৫ বিঘা জমি রয়েছে। জমিতে আবাদ করলে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা আয় হওয়ার কথা। অথবা কৃষকদের লিজ দিলেও বছরে ২৫ লাখ টাকা আয় হওয়ার কথা। কিন্তু জমির দলিল বিদ্যালয়ের আলমারিতে সংরক্ষিত থাকলেও মাঠ পর্যায়ে কোনো জমির হদিস নেই। প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে একটি পুকুর থাকলেও পুকুরের আয় ব্যয়ের কোনো হিসাব নেই। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের বিগত ব্যবস্থাপনা কমিটি বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
 
অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, গত বছর ওই বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী, নৈশ প্রহরী,অফিস সহায়ক ও আয়াসহ চারটি পদের নিয়োগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সদ্য বিলুপ্ত ব্যবস্থাপনা কমিটি ও নিয়োগ কমিটির সদস্যরা প্রায় ৫০ লাখ টাকার ঘুষের বিনিময়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদান করে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি করে নেন। 

বিদ্যালয়টির এমন পরিণতির জন্য বিদ্যালয়ের তথ্য ও গ্রন্থাগারিক সহকারী শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা  আবুল বাশার বাবুল, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফার রহমান এবং প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেনকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার এবং পুরোনো নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে সংস্কার করতে হবে। 

স্থানীয় অভিভাবক আব্দুল জলিল বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও বাশার মাস্টার। বিদ্যালয়ের অনেক জমি রয়েছে সেই জমি থেকে যে আয় হয় তা তাদের পকেটে ভরে। অথচ এই আয় দিয়ে বিদ্যালয় ও শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যেতো। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের তথ্য ও গ্রন্থাগারিক সহকারী শিক্ষক আবুল বাশার বাবুল বলেন, আমার নামে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে জড়িত নই। আমি শিক্ষক প্রতিনিধি ছিলাম কিন্ত আমার যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব শুধু পালন করেছি।

এদিকে সদ্য বিলুপ্ত ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোস্তফা রহমান বলেন, আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যে নিয়োগ হয়েছিল তা নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। যারা যোগ্য ও মেধাবী তারাই নিজ নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে। আমরা কোনো অর্থ লেনদেন করিনি।

এ বিষয়ে বোদা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার নজির বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটসহ অনিয়মের বিষযটি শুনেছি। বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে অবহিত করবো এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত