আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসা দখল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ-গুলি, আটক ২ 

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৫১ পিএম

সাভারের আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিমিয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই জনকে আটক করেছে । বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জামগড়া এলাকার দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড কারখানার সামনে এই ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের মালিকানাধীন দি রোজ ড্রেসেস লিমিটেড কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুট ব্যবসা করছিলেন আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার। গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এলাকা ছেড়ে গাঁ ঢাকা দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

এই সুযোগে দীর্ঘদিন পর ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার চেষ্টা চালায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আশুলিয়া থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা দি রোজ ড্রেসেস কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। বুধবার সকালে আবারও তারা কারখানার সামনে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ মাদবরের লোকজন বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ঝুট ব্যবসার দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলির ঘটনাও ঘটে। এ সময় ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। 

৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৯ টা ৩৪ মিনিটে ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে দি রোজ ড্রেসেস কারখানার সামনে দিয়ে নারী-পুরুষসহ পথচারীদের জীবন বাঁচাতে দৌঁড়ে পালাচ্ছে। এর পরপরই রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অর্ধশতাধিক যুবক কারখানাটির ২ নম্বর গেটের দিকে যাচ্ছে। এ সময় কারখানাটির ১ নম্বর গেটের ভিতরে নিরাপত্তা কর্মীরা আতঙ্কে ছুটাছুটি করছিল। পরে তারা কারখানার ভিতর থেকে পাইপ এনে গেটের পিছনে ঠেকনা দেয় যাতে হামলাকারীরা গেট ভাঙতে না পারে। এর কিছুক্ষণ পর উল্টোদিক থেকে আরও শতাধিক যুবককে রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে দৌঁড়ে আসতে দেখা যায়। এ সময় প্রায সবার মুখে মাস্ক পড়া ছিল এবং কয়েকজনের হাতে পিস্তল দেখা গেছে। এর মধ্যে একজনকে উপরের দিকে গুলো ছুড়ে পুনরায় গুলি লোড করতে দেখা গেছে। 

আশুলিয়া থানা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, গত ১৭ বছর ধরে পোশাক কারখানাটিতে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার ঝুট ব্যবসা করতেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা হত্যার একাধিক মামলা হওয়ায় তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আমরা কারখানার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বাস পাওয়ায় আজ কথা বলার জন্য কারখানার সামনে যাই। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের আরিফ মাদবরের নেতৃত্বে রতন, তানভীর, গালকাটা জুয়েল, হান্নান ও পারভেজসহ প্রায় শতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল নিয়ে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েন। আমরা কোনো রকমে সেখান থেকে দৌঁড়ে চলে আসি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা আরিফ মাদবর বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। তারা অন্য এলাকা থেকে এসে আমাদের ব্যবসা দখল করবে আবার আমাদের ওপর গুলিও ছুড়বে। দেশে কি আইন নাই। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। 

ঝুট ব্যবসার বিষয়ে জানতে কারখানার জিএম অপারেশন সাধন চন্ত্র দে এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত