গুলিবিদ্ধ মোস্তফা 

‘পঙ্গু হয়ে গেলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে’

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৪, ০১:১৫ পিএম

গোলাম মোস্তফা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। ৫৫ বছর বয়সী কামাল হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেই বিয়ে দিয়েছেন একমাত্র মেয়েকে। পুত্র সন্তান না থাকায় এই বয়সেও এতদিন সংসারের ঘানি টেনেছেন। স্ত্রীকে নিয়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের আন্দিকুমড়া গ্রামে তার বসবাস।

গত ৪ আগস্ট দুপুরে শেরপুর শহরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিল বের হলে তিনিও যোগ দেন মিছিলে। মিছিলটি শেরপুর থানার সামনে পৌঁছালে থানার ভেতর থেকে আচমকা শটগানের গুলি ছোড়া হয়। এ সময় গুলি লেগে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। আহত গোলাম মোস্তফাকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি।

এ ঘটনার মাস খানেক পর তার শরীরে অসহ্য ব্যথা শুরু হয়। পরে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে এক্স-রে করলে তার শরীরে ১৬টি ছররা গুলির চিহ্ন দেখা যায়। তীব্র ব্যথার কারণে ঐদিনই গুলি বের করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। পরে অস্ত্রোপাচার করে তার শরীরের ডান পাশ থেকে একটি ও বাম পাশ থেকে তিনটি ছররা গুলি বের করেন চিকিৎসক। ব্যথা কিছুটা কমায় বাড়ি ফিরে যান মোস্তফা।

গোলাম মোস্তফার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘১২টি গুলি মাংসের অনেক ভেতরে থাকায় ডাক্তাররা ১ মাস পর আবার যেতে বলেছেন। আমার কোনো পুত্র সন্তান নেই। এই বয়সেও মানুষটিকে পরিবার চালাতে রাত দিন পরিশ্রম করতে হয়। পরিশ্রম করে যে টাকা আয় করতেন, তা দিয়েই সংসার চলত। তার চিকিৎসার জন্য নিজেদের গচ্ছিত যে টাকা ছিল সেটাও শেষ। ইতিমধ্যে, ৪০ হাজার টাকা ধারদেনা করে চিকিৎসা করিয়েছি। ১ মাস পর যে যাব! আমাদের কাছে কোনো টাকা নেই। সরকারিভাবে সহযোগিতা না পেলে তার চিকিৎসা সম্ভব না।’

গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গত ৩০ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ফেরার পর থেকেই শরীরে আর শক্তি পাচ্ছিনা। ধীরে ধীরে আমার শরীরের ডানপাশ অবশ হয়ে যাচ্ছে। ডান হাত ডান পায়ে কোনো শক্তি পাইনা। এদিকে হালকা ব্যথা তো রয়েই গেছে। আমি ডায়াবেটিসের রোগী। আমি শাহবন্দেগী ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। এ পর্যন্ত আমি দল থেকে বা সরকারিভাবে কোনো অর্থ সহযোগিতা পাইনি। পঙ্গু হয়ে গেলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’

গোলাম মোস্তফা সম্পর্কে জানতে চাইলে, শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী লিংকন বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ মোস্তফার শরীরের ডান পাশ অবশ হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হতো।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত