আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে তিনি দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। এরই মধ্যে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বা ‘লাল পাসপোর্ট’ বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি ভারত সরকার তার ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ ইস্যু করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি। এমনকি শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট করা হয়নি।
ভারত ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়ায় বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না। প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও ভারত সরকার না চাইলে তাকে বাংলাদেশে আনা যাবে না। এটাও প্রত্যর্পণ চুক্তিতেই রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে চলা হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রথম দিনই আলাদা দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনার পরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আদালত এক মাস সময় দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে তাকে (শেখ হাসিনা) ফেরত আনার জন্য যা যা প্রয়োজন, সেটি অবশ্যই আমরা করব।’
কোন প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা হবে এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘কীভাবে আনা হবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো কোর্ট বলেছেন তাদের গ্রেপ্তার করতে। পরোয়ানা তো আমার কাছে আসেনি, এসেছে পুলিশের কাছে। কিন্তু পুলিশ সেটি পারবে না। কারণ তিনি দেশে নেই। যখন আমাদের কাছে আসবে তখন দেখা যাবে।’
ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনা ইস্যুতে এখনো দুপক্ষই চুপচাপ। তাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দিল্লির কাছে কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি। তাছাড়া শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক অনেক বেশি শীতল যাচ্ছে। ভারতের ভিসা কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ রয়েছে। সীমান্তেও কিছুটা অস্থিরতা আছে। ফলে এ নিয়ে আলোচনা এগোয়নি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক। ফলে এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া ভারত এর আগেও এমন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী যেভাবে শেখ হাসিনাকে ফেরানো যাবে : ২০১৩ সালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তিটি করা হলেও ২০১৬ সালে এটি সংশোধন করা হয়। সংশোধনের সময় বন্দিবিনিময়ের প্রক্রিয়া তথা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে বেশ সহজ করা হয়। সংশোধিত চুক্তির ১০-এর (৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো অভিযুক্তের হস্তান্তর চাওয়ার সময় অনুরোধকারী দেশকে সেসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পেশ না করলেও চলবে। শুধু সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেশ করলেই সেটিকে বৈধ অনুরোধ হিসেবে ধরা হবে।
দেশ ছাড়ার পর গত আড়াই মাসে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ছাড়াও সারা দেশে দুইশরও বেশি মামলা হয়েছে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির এ ব্যাপারে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি পরও শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দরকার হতে পারে। কারণ যে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে, সে অনুযায়ী কেউ যদি কোনো অন্যায় করে আইনিভাবে দোষী সাব্যস্ত হন, ওইরকম ব্যক্তিবর্গ যদি বাংলাদেশ বা ভারতে আশ্রয় নেন তাহলে উভয় দেশ চুক্তি অনুযায়ী তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, এই চুক্তিতে বলা হয়েছে যে, অপরাধটি ‘রাজনৈতিক প্রকৃতির’ হলে যেকোনো দেশ প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে।
হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান ভারত সরকারের সঙ্গে শেখ হাসিনার যে সম্পর্ক রয়েছে, সেদিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশের ফেরত চাওয়া খুব বেশি কাজে নাও আসতে পারে। কারণটা শুধু রাজনৈতিক।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান এ বিষয়ে কয়েক দিন আগে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এ চুক্তি থাকলেও এখানে যদি শেখ হাসিনার জীবন ঝুঁকির বিষয় থাকে বা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার কোনো শঙ্কা থাকে, তাহলে তাকে ফেরত দেওয়ার আগে ভারত অবশ্যই সেটা ভাববে।
কী বলছেন ভারতের কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা : ৫ আগস্টের পর থেকেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ নিয়ে ঘুরেফিরে দুই দেশের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তির বিষয়টির কথা উঠে। সম্প্রতি এ নিয়ে দেশটির ও পি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত কয়েকটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে। ফলে তাতে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে অনুরোধ এলে তা ভারত খতিয়ে দেখবে। তার একটা প্রক্রিয়া আছে, তা চলতে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে এ অনুরোধ করা হলেই যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হবে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। ভারত আর্থিক মামলায় অভিযুক্ত বিজয় মালিয়াকে চাইছে। কিন্তু এখনো তো তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। ২০১৬ সালে মালিয়া ভারত ছেড়ে যুক্তরাজ্যে গেছেন। তারপর তার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। তারপর আইনি জটে এখনো মালিয়াকে ফেরত পায়নি ভারত।’
শ্রীরাধা বলেন, ‘ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। শেখ মুজিব এবং তার পরিবারের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এটাও (ভারত) মনে করে না, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নিরাপদে থাকতে পারবে। তাই শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে ফেরত দেওয়া হবে বলে আমার অন্তত মনে হয় না। আর তাকে ফেরত পাঠানোর কোনো নৈতিক বাধ্যবাধকতাও ভারতের নেই।’
গত বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং তাকে আগামী মাসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী? উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন দেখেছি, যা সম্প্রতি এসেছে। তবে এ বিষয়ে আমার এখনই কিছু বলার নেই।’
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘শেখ হাসিনার অবস্থানের বিষয়ে আমি আগেই বলেছিলাম, তিনি স্বল্প সময়ের নোটিসে ভারতে এসেছেন। তিনি এখনো ভারতেই অবস্থান করছেন।’
লাল পাসপোর্টের অধিকারী হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ দিন বৈধভাবেই ভারতে ছিলেন শেখ হাসিনা। যদিও এরই মধ্যে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ইস্যু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারের উপদেষ্টাদের কথাতে উঠে এসেছে। সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসও দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেছেন। যদিও ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কথা বলা হয়নি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলে আসছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে দেশটির সর্বদলীয় পার্লামেন্ট মেম্বারদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে গত আড়াই মাসে দুই দেশেই আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। প্রথম দিকে বাংলাদেশে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শীতল হবে। তবে সেটি কয়েক দিনের মধ্যেই পরিবর্তন হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এমনও ইঙ্গিত করা হয়, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দীর্ঘ হলেও দুই দেশের সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে না। যদিও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সম্প্রতি ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ন্যায়বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
ট্রাভেল ডকুমেন্ট : লাল পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট প্রদান করেছে ভারত সরকার। এই ট্রাভেল ডকুমেন্ট হলো মূলত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা আইডেন্টিটি সার্টিফিকেট বা আইসি। বিশেষ ধরনের এ পরিচয়পত্রধারীরা অন্য দেশে সফর করতে পারেন। তবে যেসব দেশে যাবেন সেসব দেশের অনুমতি লাগবে।
জানা গেছে, এ ট্রাভেল ডকুমেন্ট বিশে^র বিভিন্ন দেশই দিয়ে থাকে। যাদের পাসপোর্ট থাকে না, নির্দিষ্ট একটা দেশে যেতে বা সেখান থেকে ফেরত আসার জন্য এটা দেওয়া হয়ে থাকে।
কী আছে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে : বাংলাদেশ ও ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির ন্যূনতম এক বছর সাজা হলে ওই ব্যক্তি প্রত্যর্পণযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। আর্থিক অপরাধও এর মধ্যে গণ্য হবে। চূড়ান্তভাবে প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ এমন হবে যে, ওই অপরাধ দুই দেশেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘কোনো অপরাধ করার চেষ্টা বা অপরাধে সহযোগিতা, প্ররোচনা দেওয়া, উসকানি দেওয়া অথবা সহযোগী হিসেবে কাজ করাও প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।’
তবে চুক্তি অনুযায়ী হত্যা, নরহত্যা বা অপরাধমূলক হত্যা, আক্রমণ, বিস্ফোরণের কারণ, জীবন বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক পদার্থ বা অস্ত্র তৈরি বা নিজের কাছে রাখাসহ বেশ কিছু অপরাধকে রাজনৈতিক বলার সুযোগ নেই।
ভারতের বেশ কয়েকজন পলাতক ব্যক্তি, বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর যেসব সদস্য বাংলাদেশে লুকিয়ে ছিলেন, তাদের ফেরাতেই চুক্তিটি করা হয়েছিল। এ ছাড়া জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশসহ (জেএমবি) বেশ কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠন নিয়ে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল বাংলাদেশ সরকার। ওইসব নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে লুকিয়ে ছিল। এ প্রত্যর্পণ চুক্তির বদৌলতে ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) নেতা অনুপ চেটিয়াকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল ভারত। তখন থেকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আরও এক পলাতক ব্যক্তিকে ভারতের কাছে তুলে দিয়েছিল বাংলাদেশ।
এ চুক্তির আওতায় ভারতও বেশ কয়েকজন পলাতক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছিল।
