চরম দারিদ্র্যে দেশের ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:১৫ এএম

বাংলাদেশে ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের মধ্যে অতি মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। জাতিসংঘের বৈশ্বিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক, ২০২৪ এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। ওই প্রতিবেদন মতে, সবমিলিয়ে বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ তীব্র দারিদ্র্যে বসবাস করছে যার বেশিরভাগই আফ্রিকা-দক্ষিণ এশিয়ায়।

বহুমাত্রিক দারিদ্র্য পরিস্থিতি বুঝতে জাতিসংঘ বিশ্বের ১১২টি দেশের ৬৩০ কোটি মানুষের ওপর গবেষণা করেছে। তাতে ২০২-২২৩ বছর পর্যন্ত এক দশকের বেশি সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাপনের মানকে চলক হিসেবে ধরা হয়েছে। জীবনযাপনের মানের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত আবাসন, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, ভোজ্যতেল ও পুষ্টির মতো মৌলিক মানবিক সেবাসমূহ পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি কেমন, তা বিবেচনা। জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপির করা বৈশ্বিক বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক-২০২৪ অনুযায়ী, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে মানুষের জীবনযাত্রার মান। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য সূচকে বাংলাদেশের মান ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ। আর শিক্ষায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ ও স্বাস্থ্যে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। সবমিলিয়ে দেশের চরম দারিদ্র্যে অতি মানবেতর জীবনযাপন ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ।

ইউএনডিপির ওই প্রতিবেদনের বরাতে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ১১০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের প্রায় অর্ধেকই যুদ্ধ-সংঘাত লেগে থাকা দেশের বাসিন্দা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে দারিদ্র্যের স্তর অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এসব দেশে পুষ্টি, বিদ্যুৎ, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে।

সূচকে দেখা গেছে, প্রায় ৫৮ কোটি ৪ লাখ শিশু চরম দারিদ্র্যে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী শিশুদের মধ্যে এই হার ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এর তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই হার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শিশুমৃত্যুর হার ৮ শতাংশ, যেখানে শান্তিপূর্ণ দেশগুলোতে এই হার ১ দশমিক ১ শতাংশ।

এ ছাড়া এই গবেষণায় উঠে এসেছে বিশ্বের চরম দারিদ্র্যে বাস করা প্রায় অর্ধেক মানুষই ভারতে। দেশটির ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে ২৩ কোটি ৪০ লাখই চরম দারিদ্র্যে দিন কাটায়। ভারতের পড়ে রয়েছে পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, নাইজেরিয়া ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। দারিদ্র্যে দিন কাটানো ১১০ কোটি মানুষের প্রায় অর্ধেক এই পাঁচ দেশের।

ইউএনডিপির আছিম স্টেইনার বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘাতগুলো আরও তীব্র ও বহুমুখী হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং জীবনযাত্রা ও জীবিকার ক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত