কারাসংক্রান্ত পুরনো আইন সংস্কার করতে হবে

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:২৩ এএম

বাংলাদেশে কারাগার ব্যবস্থা সংশোধনমূলক তত্ত্বের ওপর গড়ে উঠেছে। কিন্তু কারাগারগুলো এখনো সংশোধনাগার হয়ে ওঠেনি। কারাসংক্রান্ত বিধানগুলো শত বছরের বেশি পুরনো। এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, মানবাধিকার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমের সমন্বয় করে কারাব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ ও বাস্তবসম্মত করতে হবে। কারাসংক্রান্ত পুরনো আইন বাতিল করে সংস্কার কিংবা পরিবর্তন করতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে কারা অধিদপ্তরের কারা কনভেনশন সেন্টারে ‘কারাগার সংস্কার : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে আইন, আদালত, মানবাধিকার ও সংবিধানবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল-রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) ও কারা অধিদপ্তর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘আজকের এই সেমিনার থেকে আমাদের লক্ষ্য থাকবে কারাগারগুলো সংস্কারের চেষ্টা করা। এই লক্ষ্যে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন সুপারিশ করবে। যারা মানবাধিকার ও বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন, তারা এ সুযোগটিকে কাজে লাগান। আদালতে যেন নির্যাতিত মানুষের সংখ্যা নেমে আসে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘১৩৫ বছরেও আমাদের জেল কোডে কোনো পুনর্লিখন নেই। বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের তাগিদ এলেও যখন নতুন কোনো সরকার আসে, সেই তাগিদটা আর থাকে না।’ তিনি বলেন, ‘কারাগারে যারা থাকেন, তারা যে আমাদেরই অংশ, এটা আমরা বিবেচনায় রাখি না। এটা বিবেচনায় রাখা উচিত।’

কর্মশালায় জেল সংস্কার : সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও প্রস্তাবনা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কারাগার ব্যবস্থা সংশোধনমূলক তত্ত্বনির্ভর। কারাগারগুলো মূলত ১৮৬০ সালের জেল কোড, দ্য প্রিজন্স অ্যাক্ট ও দ্য প্রিজনার্স অ্যাক্ট আইনসমূহের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব আইন ঔপনিবেশিক আমলের তল্পিবাহক। আইনগুলো সংশোধন করে জেলব্যবস্থা সংস্কার এখন সময়ের দাবি।’

কর্মশালায় কারা ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশের ১৭টি কারাগারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পরে সব কারাগারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। দেশের সব কারাগারে এখন নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ রয়েছে।’

কারাগার আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেন তিনি। একই সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় উঠে আসা কারাগারের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাবে তিনি তা সমাধানের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল, কারা উপমহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির, সাবেক কারা উপমহাপরিদর্শক মো. শামসুল হায়দার সিদ্দিকী প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন এলআরএফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান জাবেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন। কর্মশালাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন এলআরএফের সিনিয়র সদস্য ও নিউএজের বার্তা সম্পাদক শহীদুজ্জামান এবং এলআরএফের প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জাভেদ আখতার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত