মহাসড়ক ঘেঁষে যে যেভাবে পারছে বসিয়েছে দোকানপাট। কেউ ভ্যানগাড়িতে, কেউ খুপরি ঘরে করছে ব্যবসা। আবার কেউ পলিথিন বিছিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছে খোলা আকাশের নিচে। দেখলে মনে হয় কোনো গ্রামীণ হাটবাজার। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার দৃশ্য এটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ও পাশের সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে বসানো হয়েছে হাটবাজার। সড়কের পাশে গাছ লাগানোর জায়গা দখল করেও বসানো হয়েছে খাবার হোটেল, চা দোকান ও বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টার। এখানে সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত বিভিন্ন ধরনের ছোট বাহনের স্ট্যান্ড। নিয়ম-কানুনের যেন কোনো বালাই নেই। ফলে ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার সাইনবোর্ড হয়ে পড়েছে যানজটের নিত্যসঙ্গী। চরম আকার ধারণ করেছে জনদুর্ভোগ। অবৈধ এসব দখলদারের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে পুলিশ। তাদের উচ্ছেদ করতে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশের পড়তে হচ্ছে রোষানলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত বাহনের স্ট্যান্ড এবং দোকানপাট নিয়ন্ত্রণ করছেন মাসুদ নামে একজন। তিনি লিটন, শামীম, মঞ্জুসহ পাঁচজন লাইনম্যান নিয়োগ দিয়েছেন। তারা প্রতিটি দোকান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার থেকে আদায় করছেন চাঁদা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানদার জানান, নৈশপ্রহরীর কথা বলে দৈনিক ৩০ টাকা করে চাঁদা দিচ্ছেন তারা। এখানে দোকান বসাতে হলে মাসুদের সঙ্গে কথা বলে বসতে হয়।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার চালকরা জানান, লাইনম্যানের বেতন বাবদ তারা দিচ্ছেন দৈনিক ২০ টাকা করে। তবে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, চাঁদার পরিমাণ আরও অনেক বেশি। ভয়ে তারা মুখ খুলছেন না।
লাইনম্যান লিটন স্বীকার করেছেন সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক থেকে দৈনিক ২০ টাকা করে নিচ্ছেন। মাসুদ তাদের এ দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে মাসুদ বলেন, ‘সড়কের শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পাঁচজন লাইনম্যান দেওয়া হয়েছিল। দুপুরে ভাত খাওয়ার জন্য লাইনম্যানরা কিছু টাকা নেন।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক আবদুল করিম বলেন, ‘ফুটপাতের ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই। তবে সড়ক দখল করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার স্ট্যান্ড দেওয়া যাবে না। গাড়ির চালক ও মালিকদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা বেড়ে গেছে। তারা আইন মানছে না, এটা দুঃখজনক।’
আইন মানছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কী করব, আমাদের অফিস পর্যন্ত ভেঙেচুরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। অফিসের সব কাগজপত্র পুড়ে গেছে। বিদ্যুৎ-পানি নেই। আমাদের বসার কোনো জায়গা নেই। ডিউটি করার জন্য গাড়িও নেই। কোনো গাড়ি ধরে মামলা দিতে চাইলে ১০-১২ জন মিলে ঘিরে ধরে তর্কবিতর্ক শুরু করে। মামলা দেওয়ার পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। আমাদের দাঁড়াতে একটু সময় লাগবে। খুব দ্রুত সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ক্যাম্পের ট্রাফিক পরিদর্শক আবু নাঈম সিদ্দিকী বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা কিছু স্থাপনা দুদিন আগে উচ্ছেদ করেছি। যানজট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে সব ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করা হবে। সাইনবোর্ড এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালালে খুব ভালো হতো।’
শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যদের প্লট বরাদ্দ তদন্তে কমিটি গঠন
রাতেই ভারতে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’, দুই রাজ্যে হাই অ্যালার্ট
তুরস্কে বন্দুক হামলায় পাঁচজন নিহত