গাজায় শান্তির আভাস লেবাননে বিভীষিকা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০২:২৭ এএম

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় যোগ দেবেন। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হলে লড়াই বন্ধের অঙ্গীকার করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে গাজায় যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় গতি আসার একটা ইঙ্গিত ইসরায়েল ও হামাসের সর্বশেষ এ অবস্থানে পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে গাজায় শান্তির ফেরার আভাস পাওয়া গেলেও লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গত বছর ইসরায়েলের গাজা অভিযান শুরুর পর থেকেই লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল। হয়েছে হামলা-পাল্টা হামলা। তবে চলতি বছর সেপ্টেম্বরে এসে সেই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা করে ইসরায়েল। যার জেরে ইরান থেকেও হামলা হয় ইসরায়েলের ওপর। আর নিয়মিত রকেট, ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলও লেবাননে ঢুকে পড়ে হামলা শুরু করেছে সম্প্রতি। গতকাল শুক্রবারও সেখানে ইসরায়েলি হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত হয়েছেন তিনি সাংবাদিকও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যার পাশাপাশি পুরো গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার পর ইসরায়েল আপাতত সেখানে কম গুরুত্ব দিতে চাচ্ছে। তাদের নতুন টার্গেট এখন লেবানন। দুই জায়গায় যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অর্থনৈতিকভাবেও চাপে পড়তে হবে।

এএফপি বলছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে গাজা যুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধ বন্ধে আগের অনেকগুলো চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষ গাজা যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আলোচনায় আগ্রহের ইঙ্গিত দিল। গত সপ্তাহে গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের হাতে নিহত হন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা আশা করছে, সিনওয়ার হত্যাকা- একটি চুক্তির পথ খুলে দেওয়ার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারে।

হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, সংগঠনটির দোহাভিত্তিক একটি প্রতিনিধিদল গতকাল কায়রোতে মিসরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে গাজা যুদ্ধবিরতি-সম্পর্কিত ‘ধারণা ও প্রস্তাব’ নিয়ে আলোচনা করেছে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য হামাস প্রস্তুত। তবে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। গাজা উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ফেরার সুযোগ দিতে হবে। বন্দিবিনিময় চুক্তিতে রাজি হতে হবে। গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে। হামাসের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধবিরতির আলোচনা আবার শুরুর জন্য মিসরের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই কায়রোয় সর্বশেষ বৈঠকটি হয়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় থাকা জিম্মিদের মুক্তির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে মিসরের প্রচেষ্টাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

কায়রো বৈঠকের পর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধানকে আগামী রবিবার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তার এমন নির্দেশনার উদ্দেশ্য, আলোচ্যসূচিতে থাকা একাধিক উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

এর আগে গত বৃহস্পতিবারই যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার বলেছিল, কাতারের রাজধানী দোহায় গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবার শুরু হবে।

এদিকে লেবাননে হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। বিমান হামলার পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থল হামলাও জোরদার করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। কোনো কোনো এলাকায় কোনো ধরনের সতর্কতা সংকেত ছাড়াই হচ্ছে হামলা। গতকাল ভোর রাতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হাসবিয়াতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে তিনজন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। হামলার সময় নিজেদের বাসস্থানে ঘুমাচ্ছিলেন তারা। হাসবিয়া থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি ইমরান খান বলেন, এটা অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা। ইসরায়েল কোনো সতর্ক সংকেত দেয়নি। হাসবিয়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো নির্দেশনা ছিল না। এলাকাটি তুলনামূলক শান্ত ছিল।

ঘটনাস্থলে থাকা প্রতিবেদকরা বলেছেন, ওই ব্যক্তিরা যে বাংলোটিতে ঘুমাচ্ছিলেন সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল জাদিদে প্রচারিত ফুটেজে বিধ্বস্ত ভবন এবং ‘প্রেস’ লেখা গাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জিয়াদ মাকারি এই হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নজিরবিহীন ঝুঁকিতে পড়ছেন সাংবাদিকেরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত