‘ছাত্রদলের মিটিংয়ে’ না যাওয়ায় কুবি শিক্ষার্থীকে মারধর

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৩৭ পিএম

‘ছাত্রদলের মিটিংয়ে’ না যাওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের ১০০৪ নম্বর রুমে এই ঘটনা ঘটে।

পরে এ ঘটনায় বিচার চেয়ে হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ কাউসার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ১৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। অপরদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীর নাম তৌহিদুল ইসলাম। তিনি একই আবর্তনে অধ্যয়নরত।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য হলের ৪০০৪ নম্বর কক্ষে মিটিং ডাকেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুনের অনুসারী ও শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত হলের ১৬ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মাজাহারুল ইসলাম আবির ও  মাহদুজ্জামান ইপেল। এসময় ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন জুনায়েদ লামিম ও মেহেদী হাসান শাহিন। জুনিয়রদের মিটিংয়ে ডাকার দায়িত্ব পান ১৭ তম আবর্তনের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস্ বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম।

এসময় তৌহিদ ১০০৪ নম্বর রুমে এসে কাউসারকে মিটিংয়ের যাওয়ার জন্য জোর করেন। কাউসার অপারগতা প্রকাশ করলে তৌহিদ কাঠের তক্তা নিয়ে এসে মারতে শুরু করেন। এ সময় আরেক ছাত্রদল কর্মী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ‘রাত ১১টায় আমি রুমে ঘুমাচ্ছিলাম। তখন ছাত্রদল কর্মী তৌহিদ আমাকে ডেকে তুলে বলেন— ‘আমাকে বলছে তোকে উপরে যেতে হবে।’ তখন আমি ঘুমাব বলে যেতে অস্বীকৃতি জানালে একপর্যায়ে আমার মশারি টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং গালিগালাজ শুরু করে। তখন আমি ধাক্কা দিয়ে বলি চলে যেতে। কিছুক্ষণ পর এসে কাঠের তক্তা দিয়ে আঘাত করে, তখন আমি কোনো রকমে নিজেকে রক্ষা করি।’

অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘১৭তম আবর্তন আমরা সবাই মিলে বসব, কথাবার্তা বলব এজন্য আমি তাকে ডাকতে যাই রুমে। রুমে গিয়ে দেখি সে শুয়ে আছে। আমি ডাকলেও, সে উঠেনি। তারপর আমি তার মশারি উঠালে সে আমাকে ধাক্কা দেয়। তখন আমি তাকে গাছের তক্তা দিয়ে দিয়ে তিন-চারটা বারি দেই।’

ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনের কর্মী কিনা এই বিষয়ে জানত চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভাইয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে আর কিছু না।’

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম ব্যাচের জুনায়েদ লামিম মিটিংয়ের বিষয়ে বলেন, ‘আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। মিটিংয়ে ডাকা হয়েছিল ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কথা বলতে। 

জুনিয়রদের ডাকার বিষয়ে ১৬তম আবর্তনের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী মাহাদুজ্জামান ইপেল বলেন, আমি আগে ছাত্রলীগ করতাম তবে এখন ছাত্রদল করি এটা ঠিক। ছাত্রদলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মিটিং ছিল কিনা এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। জানা গেছে, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ক্ষমতা প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ আছে।

মারধরের বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, আমাদের কোনো মতবিনিময় সভা ছিল না। যারা মারামারি করেছে তারা কেউ আমার অনুসারী নয়। অনুসারী না হলে কীভাবে তাদেরকে ভ্রমণ করতে নিয়েছিলেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে অনেকে ভ্রমণ করতে গিয়েছে। আসলে তারা কারা আমি জেনে আপনাকে জানাবো।

এ বিষয়ে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. জিয়া উদ্দিন জানান, আমি ঘটনাটি শুনেছি। তাদেরকে ডাকা হয়েছে। সবার সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত করে হল প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত