বর্ণবাদ-বৈষম্যের চরম শিকার ইউরোপের মুসলিমরা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৫৯ এএম

ইউরোপ জুড়ে মুসলিমরা এখন বর্ণবাদের ‘উদ্বেগজনক বৃদ্ধির’ সঙ্গে লড়াই করছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা এ মন্তব্য করে বলেছে, বর্ণবাদ এমন বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে ‘অমানবিক মুসলিমবিদ্বেষী বাগাড়ম্বর’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে বর্ণবাদের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি একটি জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ওই সংস্থা। জরিপে দেখা গেছে, এতে অংশগ্রহণকারী মুসলিমদের প্রায় অর্ধেকই বলেছেন, সম্প্রতি তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ইইউ এজেন্সি ফর ফান্ডামেন্টাল রাইটস (এফআরএ) নামে সংস্থাটির এ প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। ইউরোপের ১৩টি দেশের ৯ হাজার ৬০০ জন মুসলিম নারী-পুরুষ সংস্থাটির জরিপে অংশ নেন। জরিপের ফলে দেখা গেছে, ইউরোপ মহাদেশ জুড়ে বর্ণবাদ ও বৈষম্য মুসলিমদের জীবনযাত্রার অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৈরি করছে নানা হুমকি।

মুসলিমরা বলছেন, এ বর্ণবাদ ও বৈষম্যের প্রকাশ ঘটছে নানাভাবে। যেমন, তাদের সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছে, চাকরির ক্ষেত্রে অসমতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, এমনকি বাড়ি কেনা বা ভাড়া নিতে গেলেও পক্ষপাত করা হচ্ছে।

এই জরিপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে গত বছরের ৭ অক্টোবরের আগে। তবে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এফআরএ বলছে, যদিও এ জরিপ ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর আগে করা হয়েছে, তবু নাগরিক সংগঠনগুলো ও বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ওই সংঘাত শুরুর পর থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কর্মকান্ড বেড়ে চলেছে। এ বিষয়ে সংস্থার পরিচালক শিরপা রাউতিয়ো বলেন, ইউরোপে মুসলিমদের বিরুদ্ধে আমরা বর্ণবাদ ও বৈষম্য উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে দেখছি। এটি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে উসকে উঠছে। মুসলিমবিরোধী অমানবিক বাগাড়ম্বরপূর্ণ কথাবার্তায় মহাদেশ জুড়ে এ বর্ণবাদ ও বৈষম্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলেছে মানবাধিকার সংস্থা এফআরএ। দেখা গেছে, ২০২২ সালের আগে পাঁচ বছরে বর্ণবৈষম্যের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন তাদের ৪৭ শতাংশ। ২০১৬ সালের তুলনায় এটি ৩৯ শতাংশ বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত