বেসরকারি অলাভজনক সংগঠনই হলো এনজিও। যারা সমাজ ও মানুষের উন্নয়নে কাজ করে। সংগঠনগুলো বিভিন্ন দাতাদের অর্থায়নের ভিত্তিতে সরকারকে উন্নয়নে সহযোগিতা করা ও উন্নয়নে সক্রিয় অবদান রাখে। কাজটা বহুমুখী। ক্ষেত্রও ব্যাপক। মাঠপর্যায়ে একজন এনজিও কর্মী ছোট-বড় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মেশা, তাদের সমস্যার কথা সরকার ও সমাজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গকে জানানো, উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়াসহ এনজিওতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। বাংলাদেশের এনজিওগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ করছে। কাজের ধরনকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি প্রকল্পভিত্তিক, অন্যটি স্থায়ী।
যোগ্যতা : এনজিওতে যোগ্যতায় কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। অফিস সহকারী থেকে শুরু করে কান্ট্রি ডিরেক্টর পর্যন্ত পদ আছে। নানা বৈচিত্র্য ও নানা যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা এই পদে কাজ করেন। যে কোনো পেশায় পড়ে কাজ করা যায়। তবে উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়লে বাড়তি সুবিধা যায়। বিজ্ঞান, কলা, বাণিজ্য যে কোনো বিভাগ থেকেই এনজিওতে আসা যায়। সামাজিক বিজ্ঞান নিয়ে পড়লে চাকরি পাওয়া কিছুটা অপেক্ষাকৃত সহজ। বিশেষ করে যারা ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ এসব বিষয়ে পড়াশোনা করেন। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোতে এন্ট্রি লেভেলে অভিজ্ঞতার দরকার হয়। তবে শুরুর পদে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতার দরকার হয় না।
ক্যারিয়ার : এনজিও মানেই ঋণদাতা সংগঠন বা মাঠকর্মী মনে করেন না অনেকে। অথচ এখানে আছে কাজের ভিন্নতা ও নানা ধরনের ক্যারিয়ার। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও শিল্পীরাও এখন এনজিওতে কাজ করতে পারেন। শুরুর তিন-ছয় মাস প্রবেশনারি পিরিয়ড থাকে। এজন্য সাধারণত সহকারী অফিসার, সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার, সহকারী তথ্য অফিসার, সহকারী মনিটরিং অফিসার বা সহযোগী অফিসার পদে নিয়োগ করা হয়। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে যারা কাজ শুরু করতে চান, তাদের জন্য আছে ফ্যাসিলিটেটর, কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর, কমিউনিটি টিচার, কমিউনিটি মবিলাইজার ইত্যাদি পদ। এ পদের কাজের মধ্যে রয়েছে স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ, সভার আয়োজন, জরিপ, এলাকায় ব্যবহারযোগ্য সম্পদ, যা জনগণ কাজে লাগাতে পারে সেগুলোর প্রতিবেদন তৈরি, নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রকল্পের কর্মকর্তাদের নানাভাবে সাপোর্ট করা।
গ্র্যাজুয়েশন বা স্নাতকোত্তরের পরপরই সাধারণ অফিসার পদমর্যাদায় নিয়োগ হয়। এ ক্ষেত্রে বিদেশি এনজিওতে এখন ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পায়। পদগুলোর শেষে অফিসার বা অ্যাসোসিয়েট থাকে। পরবর্তী ধাপের পদটি হলো সিনিয়র অফিসার। প্রকল্পভিত্তিক চাকরিতে এর চেয়ে বড় পদটি হলো ম্যানেজার বা প্রজেক্ট ম্যানেজার। এ পদের জন্য সিনিয়র কোনো পদে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। সদর দপ্তরে অনেক সময় ডেপুটি বা পরিচালক পদেও আবেদন চাওয়া হয়। তবে পদগুলো আরও বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের জন্য।
চাকরি খুঁজতে : এনজিওতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে সে অনুযাযী বায়োডাটা তৈরি করতে হয়। বিজ্ঞপ্তির চাহিদা অনুযায়ী অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা আছে কি না দেখুন। সেভাবেই সাজাতে হবে আবেদনপত্র। বায়োডাটায় আপনার ক্যারিয়ার বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থাকলেও এ ক্ষেত্রে আবেদনপত্রেই (কভার লেটার) জোর দিন। কারণ চাকরিদাতা সবার আগেই দেখতে চাইবেন পদ অনুযায়ী আপনার দক্ষতা আছে কি না বা বিশেষ কোনো অর্জন আছে কি না। অনেক এনজিও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বেতন উল্লেখ করে দেয়।
না করে থাকলে খোঁজখবর নিতে পারেন।
এনজিওগুলো সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের মতো বড় করে পরীক্ষা নেয় না। এখানে সিভি বাছাই করে আগে প্রাথমিকভাবে একটি শর্ট লিস্ট করে নেওয়া হয়। আবেদনের সময়সীমা পার হওয়ার মাসখানেকের মধ্যে শর্ট লিস্টেড হয়েছে কি না, জানতে পারবেন। ক্ষেত্রবিশেষে তা তিন-চার মাসও গড়াতে পারে।
এরপর দিতে হতে পারে লিখিত পরীক্ষা। তাতে উত্তীর্ণ হলে ডাক পড়বে মৌখিকের জন্য। এ ক্ষেত্রে কাজসংশ্লিষ্ট বিষয়েই নিয়োগকর্তারা জানতে চাইবেন। এ ধরনের ভাইভাকে বলা হয় কমপিট্যান্সি বেইজড ভাইভা। অর্থাৎ সরাসরি কাজ বা কাজ সংক্রান্ত বিষয়েই হবে আলাপ।
বেতন কেমন : বেতন কাঠামো নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও দাতার ওপর। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো দেশি এনজিওগুলোর তুলনায় বেশি বেতন থাকে। শুরুতে অফিসের সাপোর্ট স্টাফ পদে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেন। এরসঙ্গে মেডিকেল ভাতা, প্রভিডেন্ট, উৎসব ভাতাও যুক্ত হয়। তবে সহকারী পদগুলোতে কাজ করার মাধ্যমে ধাপে ধাপে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। সিনিয়র পদে বিদেশি এনজিওগুলোতে লাখ টাকার মতো বেতন পাওয়া যায়। প্রকল্প ম্যানেজারদের বেতন দেড় লাখ টাকার বেশিও হতে পারে। কাজের ব্যাপ্তি, ভাষার দক্ষতা ও দাতাসংস্থার ওপরও অনেক সময় দেশি এনজিওতেও মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়া যায়। এনজিওতে পদোন্নতি ‘সময়ভিত্তিক’ না হয়ে ‘পারফরম্যান্সভিত্তিক’ হয়ে থাকে। তাই শুরু থেকে নিজের পারফরম্যান্সের শর্তগুলো জেনে নিন।
সুযোগ-সুবিধা : ভালো বেতনের পাশাপাশি এনজিওতে চিকিৎসা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও বিদেশ ভ্রমণের সুযোগও রয়েছে। মাঠপর্যায়ে কাজের জন্য রয়েছে বিশেষ ভাতা। বেশিরভাগ এনজিওতে সপ্তাহে দুদিন ছুটি পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি বাইরে প্রশিক্ষণের সুযোগও পাওয়া যায়। এনজিওতে নারীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ও কিছু পদে অগ্রাধিকার রয়েছে।
