সুপারসপের পর কাঁচাবাজারেও আজ শুক্রবার থেকে নিষিদ্ধ হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তা বাস্তবায়ন কঠিন হবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, শুরুতেই বাজারে নয়, পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি পাটসহ পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে বাড়াতে হবে সচেতনতা।
গত ১ অক্টোবর থেকে সুপারশপে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বেশিরভাগ সুপারশপে এখন পলিথিনের পরিবর্তে পাট, কাগজ ও কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেসব ব্যাগেই ক্রেতাদের পণ্য দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন জাতীয় সব ধরনের ব্যাগ নিষিদ্ধ এবং কোনো ক্রেতাকে এ ব্যাগ দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ কার্যক্রমে কাঁচাবাজার ও পলিথিন উৎপাদন কারখানায় অভিযান চালানো হবে। কাঁচাবাজারগুলো যেন আর পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার না করে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নতুন করে নিষেধ করার কিছু নেই। ২০০২ সাল থেকে আইন করে নিষিদ্ধ করা আছে।
তিনি সেদিন বলেন, ১ অক্টোবর থেকে ঢাকার সুপারশপগুলোতে প্লাস্টিক ও পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ আর ব্যবহার করা যাবে না। এটি সরকারের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এটি সুপারশপগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে পাট, কাপড় ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করা হবে।
এদিকে পলিথিন নিষিদ্ধের পর বিক্রেতারা বলছেন, পলিথিনের গ্রাহক আসছে রোজ। কিন্তু পলিথিন দেওয়া যাচ্ছে না। পলিথিনের বিকল্প কিছু না আসায় আরও সমস্যা। বিকল্প কিছু আসবে শোনা গেলেওকিন্তু এখনও আসেনি।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, পলিথিনের বিপরীতে কাগজের প্যাকেট বিক্রি করছি ৭০ তাকা কেজি দরে। কিন্তু দোকানিদের তা পোষাচ্ছে না দামের কারণে। এদিকে নিরাপদ না হলেও উপায়হীন হয়ে বিক্রি করছি টিস্যু ব্যাগ। নিষিদ্ধের আগে বাজারে পলিথিনের বিকল্প সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী ও ব্যবসায়ী নেতারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়কারী লিংকন গায়েন গণমাধ্যমকে বলেন, এটা সত্য যে পলিথিন পরিবেশ, খাল-নদী ও মাটির জন্য বিপজ্জনক। সেজন্য এটি বন্ধ হওয়া দরকার। পাশাপাশি এটিও সত্য যে, বাজারে বিকল্প সামগ্রী না দেওয়ায় বিভিন্ন সময় সরকারের নেওয়া পলিথিন বন্ধের ঘোষণা সুফল পায়নি। এবারেও আমরা মনে করি যে সাধারণ মানুষ এখনও প্রস্তুত হয়ে উঠতে পারেনি।
পুলিশের ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিষয়ে চলছে গোপন তদন্ত
ইসরায়েলে হামলার নির্দেশ দিলেন খামেনি