চোর সন্দেহে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা গাছের সঙ্গে বেঁধে দুই যুবককে পেটানোর এক ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া আবদার গ্রামে।
পেটানোর পর আহতদের শরীরের ক্ষত স্থানে মরিচের গুড়া আর লবণ লাগিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে। তবে পুলিশ তাদের সাহায্য বা হাসপাতালে পাঠানো কোনো ব্যবস্থা করেনি। আহতদের থানায় অভিযোগ দিতে বলেছে।
ভুক্তভোগী দুইজন হলেন—মাইনুদ্দিন সোহেল (২৬) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ভাতাদিয়া গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে। সাইটালিয়া গ্রামের ইরেক্টস্ পুলস অ্যান্ড স্টাকচারস্ লিমিটেড নামের একটি কারখানায় চাকরি করেন। কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের আবাসিক ভবনেই থাকতেন তিনি। অপর যুবক আলমগীর হোসেন (২৪) শ্রীপুরের আবদার গ্রামের আছিম উদ্দিনের ছেলে। তিনিও একই কারখানায় চাকরি করেন।
নির্যাতনের শিকার মাইনুদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার রাতের শিফটে কাজ শেষে তিনি ও তার সহকর্মী আলমগীর ভোরে দিকে কারখানার মূল গেইটের বাইরে চা খেতে যান। এ সময় কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কয়েকজন লোক জোরপূর্বক তাদের সেখান থেকে ধরে নিয়ে যান। প্রথমে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে তাদের ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বাড়ির পাশে নিয়ে গাছে বেঁধে রাখা হয়। সেখানেও নির্যাতর চালানো হয়।
তিনি কান্না করতে করতে বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে তাদের চরম নির্যাতন করা হয়েছে। তাদের শরীরের ক্ষত স্থানে মরিচের গুড়া ও লবণ লাগিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। তবে কেউ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।
মাইনুদ্দিনের বড় ভাই মহিউদ্দিন জানান, সবার হাতে-পা ধরলেও কেউ তাদের ছাড়তে এগিয়ে আসেননি। এক পর্যায়ে তারা এক লাখ টাকা দাবি করেন। এর পর নিরূপায় স্ত্রী গয়না বিক্রি করে ৩০ হাজার টাকার ব্যবস্থা করে তাদের দেন। সেই টাকা নির্যাতনকারীদের একজনের কাছে দেওয়ার পর তাঁদের দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আহতরা কোনো অভিযোগ দেয়নি। তাদের কোনো স্বজনও অভিযোগ করেনি। আমরা তাদের অভিযোগ দায়ের করতে বলেছি। অভিযোগে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মা হতে চলেছেন অ্যামি জ্যাকসন
হাতি গর্তে পড়েছে বলে চামচিকাও লাথি মারে: জি এম কাদের