দুই শিল্প প্লট ১২ বছর খালি

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৮ এএম

হবিগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মো. আবু জাহিরের ছেলে ও মেয়ের নামে বরাদ্দ দেওয়া দুটি শিল্প প্লট ১২ বছর ধরে খালি থাকার পরও তা বাতিলে নেই কোনো পদক্ষেপ। শুধু বিব্রত আর অসন্তোষের কথা জানিয়ে দায় সারছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্র্তৃপক্ষ। হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাহির ২০০৮ সালে হবিগঞ্জ সদর আসনে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর ছেলে, মেয়ে ও ছোট ভাইয়ের নামে টেক্সটাইল এরিয়ায় (বি-ওয়ান থেকে বি-ফাইভ পর্যন্ত) ৩১ শতক করে ওই দুটি প্লট বরাদ্দ নেন ২০১২ সালে। মোট ৬২ শতক আয়তনের প্লট দুটির মধ্যে মেসার্স মুক্তি টেক্সটাইলের নামে বরাদ্দ পাওয়া একটির ব্যবস্থাপনা অংশীদার জনৈক জাকারিয়া চৌধুরী ও অংশীদার হচ্ছেন জাহিরকন্যা আরিফা আক্তার মুক্তি। হবিগঞ্জ টেক্সটাইলের নামে বরাদ্দ নেওয়া পাশের আরেকটি প্লটের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জাহিরের ছেলে ইফাত জামিল ও অংশীদার ছোট ভাই বদরুল আলম। পরে বদরুল আলম ও জাকারিয়া চৌধুরী তাদের অংশ জাহিরের ছেলেমেয়ের কাছে বিক্রি করে দেন।

সরেজমিন হবিগঞ্জ শহরতলির ধূলিয়াখালে বিসিক শিল্পনগরীতে গিয়ে দেখা গেছে, ইফাত জামিল ও আরিফা আক্তার মুক্তির ঝোপজঙ্গল আর ঘাসে ভরপুর প্লটে গরু-ছাগল বিচরণ করছে। শিল্পনগরীর কয়েকজন শ্রমিক জানান, খালি এ দুই প্লটে দিনে গরু, ছাগল চরে আর রাতে শিয়ালের হাঁকডাকে সরগরম থাকে। নির্দিষ্ট সময়ে উৎপাদনে যেতে ব্যর্থ প্লট মালিকের বরাদ্দ বাতিল করে তা প্রকৃত উদ্যোক্তাদের মধ্যে বরাদ্দের নিয়ম থাকলেও এ ব্যাপারে বিসিক

কর্র্তৃপক্ষ কঠোর নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দের নীতিমালা অনুযায়ী, প্লটের দখল বুঝে নেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা ভবনের লে-আউট প্ল্যান দাখিল করতে হবে। তা ১৫ দিনে অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে ১৮ মাসে। এ ছাড়া তিন মাসে যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর এক মাসে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করতে হবে। আর এর দুই মাসে শুরু করতে হবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন। এ সময়সূচির ব্যত্যয় ঘটলে নোটিস ছাড়াই প্লটের বরাদ্দ বাতিল বলে গণ্য হবে বলে উল্লেখ রয়েছে নীতিমালায়।

মেসার্স মুক্তি টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জাকারিয়া চৌধুরী জানান, তিনি তিন বছর আগে জাহিরকন্যা মুক্তির কাছে তার অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে এখনো বিসিককে তা লিখিতভাবে জানাননি। কাগজপত্রে ছেলেমেয়ের নামে প্লট রাখলেও মূলত আবু জাহিরই মালিক।

এর আগে ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারি দেশ রূপান্তরে ‘কারখানার বদলে কলাগাছ’ শিরোনামে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ও পরদিন সম্পাদকীয় প্রকাশ হলে বিসিক এবং প্লট মালিক নড়েচড়ে বসে। প্লটে থাকা কলাগাছগুলো কেটে দেওয়া হয়। ভবনের পিলার তৈরির জন্য গর্ত খোঁড়া ও কিছু ইট এনে নির্মাণের প্রস্তুতি দেখানো হলেও এ পর্যন্ত একটি পিলারও ওঠেনি। হবিগঞ্জ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও আল বারাকা কনজ্যুমার প্রডাক্টের কর্ণধার আলহাজ শামসুল হুদা বলেন, ‘বিসিকে আমাদের গৃহিণী তেল মসলা ফ্যাক্টরিটি স্থানান্তর করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু

কর্র্তৃপক্ষ জায়গা খালি নেই বলে জানিয়েছে। অথচ শিল্পের জায়গা বরাদ্দ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে খালি থাকার পরও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বিসিক।’ যুক্তরাজ্য প্রবাসী কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন প্রবাসী মিলে বিসিকে শিল্পকারখানা গড়ার ইচ্ছে ছিল। দেশে এসে বহুবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু জায়গা পাইনি।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিসিকের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ খান বলেন, ‘আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। হবিগঞ্জ শিল্পনগরীতে ১২ বছর ধরে প্লট খালি রাখার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাবেক এমপি আবু জাহির ৪ আগস্টের পর থেকে পালিয়ে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত