মরুর বুকে জয়ের খোঁজে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৪ এএম

প্রায় ১০০ দিন হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জয়ের দেখা নেই বাংলাদেশের। রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ দল বুঝি খুঁজে পেয়েছে হারানো পথ, কিন্তু পরের তিনটে সিরিজে বাংলাদেশ একেবারে লেজেগোবরে করে ফেলল সব। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের পর দেশে অনভিজ্ঞ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে নাস্তানাবুদ। ৪ টেস্ট এবং ৩ টি-টোয়েন্টি ধরে জয়হীন বাংলাদেশ কি পারবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের ধারায় ফিরতে? শারজায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি আজ, যা কিনা এই মাঠের ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। আরব আমিরাত আফগানদের কাছে ঘরের মাঠ, এখানে তারা আন্তর্জাতিক ম্যাচ তো বটেই ঘরোয়া আসরের খেলাও আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশের জন্যও এই মাঠে ৮ ম্যাচ খেলে (৫ ওয়ানডে, ৩ টি-টোয়েন্টি) কোনো ম্যাচই জিততে না পারার দুঃসহ অভিজ্ঞতাই সঙ্গী। পরিসংখ্যান তাই পুরোটাই প্রতিকূলে। ভরসা কেবল এতটুকুই, খেলাটা ৫০ ওভারের ওয়ানডে সংস্করণে। যে সংস্করণে বাংলাদেশ টেস্ট কিংবা টি-টোয়েন্টির চেয়ে তূলনামূলকভাবে সফল।

নতুন কোচ ফিল সিমন্সকে সঙ্গী করে প্রথম বিদেশ সফর বাংলাদেশের। আশা করা যায় দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সিরিজে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় থাকা এই ক্যারিবীয় কোচ এবারে কিছুটা উদ্যোগী হবেন। দলে নিয়মিত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লিটন দাস নেই, সূচনায় তাই হয়তো আরও একবার সৌম্য সরকারকে দেখা যাবে। অন্যের ব্যর্থতা, কোচের সুনজর এমন নানান অঙ্কে সৌম্য প্রায়ই দলে ঢুকে পড়েন এবং ব্যর্থতার জন্য বাদও পড়েন। এতে করে তার নিজেরও খুব সম্ভবত কোনো আক্ষেপ নেই, কারণ তার তারকাখ্যাতিতে কোনো টান যে পড়েনি! এশিয়া কাপে মেহেদী হাসান মিরাজকে ইনিংসের গোড়াপত্তনে পাঠিয়ে সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ, সৌম্যর সঙ্গে হয়তো তাকেই দেখা যাবে শুরুতে। না হলে অগতির গতি তানজিদ হাসান তামিম। সেই কবে মার্চের ১৮ তারিখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮৪ রান করেছিলেন, কাগজে-কলমে সেটাই বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডে তাই নির্বাচকরা তাকেই বা বাদ দেবেন কী করে?

অধিনায়ক শান্ত নিজেও টপ অর্ডারেই ব্যাট করেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা ঢাকতে সংবাদ সম্মেলনে তিনিই ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন, ‘যে কোনো সংস্করণেই টপ অর্ডার...শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যারা টপ অর্ডারে ব্যাটিং করে তারা বেশি চাপ নিয়ে ব্যাটিং করুক এই জিনিসটা আমি চাই না। চাই ওপরের দিকে যারা ব্যাটিং করছে, খেলাটা উপভোগ করুক। আর যতটুকু সামর্থ্য আছে সেই অনুযায়ী দলের জন্য খেলুক। আমি বিশ্বাস করছি যে এই সংস্করণে আমরা ভালো করব এবং অতীতেও আমরা ভালো করেছি। অবশ্যই আফগানিস্তান এই কন্ডিশনে ভালো দল তবে আমি মনে করি আমাদের যে দলটা আছে আমরা যদি আমাদের শক্তি-সামর্থ্য অনুযায়ী খেলি, তাহলে অবশ্যই তাদের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব।’

ভিসা জটিলতায় বাঁ-হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ ও পেস বোলার নাহিদ রানা এখনো দলের সঙ্গে এসে যোগ দিতে পারেননি। শান্তর বিশ্বাস তারা এসে যাবেন ম্যাচ শুরুর আগে, ‘আমার মনে হয় যে নাসুম এবং রানা চলে আসবে, এটা আমি বিশ্বাস করছি এখনো এবং ক্রিকেট বোর্ড বিষয়টি দেখছে, ম্যাচ শুরুর আগে এখনো সময় আছে, আরেকটু আগে আসতে পারলে অবশ্যই ভালো হতো। এসব আসলে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আফগানদের ডানহাতি ব্যাটসম্যান বেশি, আমাদের বাঁ-হাতি স্পিনার না থাকলেও রিশাদ (লেগ স্পিনার) আছে, সে যেভাবে টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করছে আমার কাছে মনে হয় সে খুব ভালো একটা বিকল্প হবে।’

এই শারজায় কিছুদিন আগেই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে আফগানরা। বাংলাদেশ সফরে টেস্টে যারা অনায়াসে সেঞ্চুরি করেছে; সেই টনি ডি জর্জি, কাইল ভেরেইনা, ট্রিস্টান স্টাবসরা খাবি খেয়েছেন রশিদ খান আর ফজল হক ফারুকির বল খেলতে। অন্যদিকে প্রোটিয়া বোলিংয়ের বিপক্ষে রহমানউল্লাহ গুরবাজ, আজমতউল্লাহ ওমরজাইদের ব্যাটে ছিল সেঞ্চুরি, হাফসেঞ্চুরি। তেতো হলেও এটাই সত্যি যে আফগানদের সঙ্গে এখন আসলে বাংলাদেশ অনেক জায়গাতেই পিছিয়ে।

শারজার মাঠে সোজা বাউন্ডারির দূরত্ব ৬২ মিটার আর আড়াআড়ি অর্থাৎ স্কয়ার অব দ্য উইকেটে ৬৫ মিটার। এই মাঠে চার ছক্কা হয় অনেক। আফগান ব্যাটসম্যানরা চার ছক্কা মারতেও পটু। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এই জায়গাতে বড় ঘাটতি। রশিদ খান প্রতিপক্ষে না থাকাটা হয়তো স্বস্তির, তবে আফগানদের একের পর এক স্পিন প্রতিভার উত্থানে কেউই কারও চেয়ে খুব একটা পিছিয়ে নন। চেনা নামের বাইরে ব্যাটসম্যানদের ভেতর আছেন ইমার্জিং এশিয়া কাপে দারুণ ব্যাট করে আফগানদের শিরোপা জেতানো সাদিকুল্লাহ আতাল। কন্ডিশন, প্রতিপক্ষ সবই বাংলাদেশের প্রতিকূলে। হয়তো সময়টাও কারণ সাকিব ও লিটন না থাকার পর নাসুম ও রানার দলের সঙ্গে যোগ না দেওয়াতে একাদশ বাছাইয়ে অধিনায়কের হাতে বিকল্পেরও অভাব। এমন পরিস্থিতিতেও জয়ের আশা করার দুঃসাহস শান্ত দেখাচ্ছেন খুব সম্ভবত পুরনো সেই প্রবাদের ওপর ভর করেইÑ ক্রিকেট যে গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত